বরগুনায় ব্যাগের ভেতর উদ্ধার সেই নবজাতক এখন বরিশাল শিশু নিবাসে

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ব্যাগের ভেতর উদ্ধার সেই নবজাতক এখন বরিশাল শিশু নিবাসে
বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬


 

বরগুনায় ব্যাগের ভেতর উদ্ধার সেই নবজাতক এখন বরিশাল শিশু নিবাসে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালীতে রাস্তার পাশে বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুটিকে বুধবার (২৬ আগস্ট) সরকারি তত্ত্বাবধানে বরিশাল শিশু নিবাসে নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে তিন দিন ধরে শিশুটিকে নিজেদের সন্তানের মতো আগলে রাখা পরিবারটির সঙ্গে তার তৈরি হওয়া মমতার সম্পর্ক এখনো স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করে তুলছে।

 

২৪ আগস্ট পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধারের পর উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তিন দিন ধরে তাকে নিজেদের সন্তানের মতো যত্ন নেন। শিশুটিকে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করেন তাঁরা।

 

মাত্র তিন দিনের এই সম্পর্কেই শিশুটির প্রতি গভীর মায়া তৈরি হয় মাসুমা বেগমের। বুধবার সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার জন্য কর্মকর্তারা হাসপাতালে গেলে তিনি শিশুটিকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে শিশুটিকে দিতে না চেয়ে তিনি আপত্তি জানান।

 

প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল জানান, সরকারি কর্মকর্তা, নারী পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সরকারি তত্ত্বাবধানে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে বিভিন্ন আশ্বাসের পর মাসুমা বেগম শিশুটিকে কোলে নিয়েই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অনেককেই চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

 

মাসুমা বেগম বলেন, ‘শিশুটি আমার। আমি দেব না। মা এতদিন কই ছিল? আমি তো তিন দিন মায়ের মতো করে লালন করলাম। তখন তো কেউ নিতে আসেনি। এখন সবাই এসেছে।’

 

এদিকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর থেকেই তার প্রয়োজনীয় যত্ন ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. নিকহাত আরা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহমুল হাসিব নবজাতকটির জন্য পাঁচ সেট পোশাক, দুটি তোয়ালে, একটি বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করেন। পরে সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে বুধবার শিশুটিকে বরিশাল শিশু নিবাসে নেওয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট বামনার সোনাখালী এলাকায় রাস্তার পাশে একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে পিঁপড়া ছিল এবং নাড়িও পুরোপুরি কাটা হয়নি বলে জানা যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

 

শিশুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে তিন দিন ধরে তাকে আগলে রাখা পরিবারের সঙ্গে শিশুটির তৈরি হওয়া মমতার সম্পর্কও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে।

 

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিশুটির নিরাপত্তা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাই এবং শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে, মাসুমা বেগম ও তারিফ হাওলাদারের পরিবার শিশুটিকে নিরাপদ ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশে লালন-পালনে সক্ষম, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

শিশুটি এখনো কথা বলতে পারে না। আইন, প্রশাসন কিংবা সরকারি শিশু নিবাস সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই। তবে জীবনের প্রথম দিনগুলোতে পাওয়া পরিচিত বুকের উষ্ণতা ও মমতা হয়তো তার ছোট্ট জীবনের প্রথম নিরাপদ আশ্রয়ের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:০২:৫৩ ● ১৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ