
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ফাঁসিপাড়া এলাকায় ভুয়া ওয়ারিশ সেজে জমি বিক্রি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে জালাল শরীফ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম শরীফ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম শরীফ বলেন, তাঁর বাবা দলিল উদ্দিন শরীফের তিন স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের আলাদা সংসার ও সন্তান রয়েছে। দুই স্ত্রী কুয়াকাটার ফাঁসিপাড়া এলাকায় বসবাস করলেও অপর স্ত্রী ছফুরা বেগম বগুড়ায় থাকতেন। তাঁর দুই সন্তান ইসমাইল ও মরিয়মও বগুড়ায় বসবাস করতেন।
লিখিত বক্তব্যে নুরুল ইসলাম শরীফ আরও উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা বগুড়ার বাড়িঘর ও জমিজমা স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে লিখে দিয়ে কুয়াকাটার পৈতৃক ভিটায় ফিরে আসেন। পরে ছফুরা বেগম অন্যত্র বিয়ে করেন। ১৯৯৬ সালে দলিল উদ্দিন শরীফ মারা গেলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ওয়ারিশদের অধিকার তৈরি হয়।
নুরুল ইসলাম শরীফের অভিযোগ, তাঁর ভাতিজা জালাল শরীফ ১৯৯৮ সালে বগুড়ায় থাকা তাঁর সৎ ভাই-বোন ও সৎ মায়ের কাছ থেকে গোপনে তাঁদের ওয়ারিশি সম্পত্তি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে নেন। ওই দলিলে এসএ খতিয়ান নম্বর ৮৩১ ও ৪০৩১ এবং দাগ নম্বর ৪১৯৫, ৪১৯৬ ও ৪২১৬ উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রায় ১৪ কাঠা জমি বিক্রি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সৎ মা ছফুরা বেগম অন্যত্র বিয়ে করার পরও দলিলে তাঁর বাবার ওয়ারিশ হিসেবে জমি বিক্রি করেছেন। এভাবে প্রকৃত ওয়ারিশের পরিচয় গোপন করে জমি বিক্রির মাধ্যমে তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
নুরুল ইসলাম শরীফের আরও অভিযোগ, জালাল শরীফ ওই জমি ক্রয়ের পর জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং মামলা ও হামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া জালাল শরীফের বিরুদ্ধে মসজিদের জমি আত্মসাৎসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম শরীফ বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার সঠিকভাবে নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই।’
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম শরীফের ছোট ভাই নজরুল শরীফ, পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জালাল শরীফের বক্তব্য জানা যায়নি।