
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরের নেছারাবাদে গ্রামের বাড়িতে একদল লোকের অবরোধ ও হয়রানির অভিযোগের পর বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা, টকশো ব্যক্তিত্ব ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন তৌহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি এলাকার পৈতৃক বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউদ্দিন তৌহিদের নামে কিছু পোস্টার ছাপিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো হয়। এসব পোস্টারকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে শনিবার সকালে একদল লোক তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে। এ সময় মবের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিরাপত্তার কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। তবে পোস্টারগুলো তিনি নিজে ছাপিয়েছেন বা সাঁটিয়েছেন- এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়াউদ্দিন তৌহিদ। তাঁর দাবি, কে বা কারা পোস্টারগুলো ছাপিয়ে বিভিন্ন স্থানে সাঁটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের দেখাশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর জিয়াউদ্দিন তৌহিদ অসুস্থ অবস্থায় কিছুদিন ধরে পৈতৃক বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমসাময়িক, ঐতিহাসিক, আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করছেন। পাশাপাশি টকশোতে বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
এদিকে জিয়াউদ্দিন তৌহিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে অযথা হয়রানি না করে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
তিনি বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে এভাবে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে হয়রানি করা আইনের শাসনের মধ্যে পড়ে না। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
তবে জিয়াউদ্দিন তৌহিদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।