
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও দখলে অস্তিত্ব হারাতে বসা একটি খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গলাচিপা পৌরসভা, গলাচিপা সদর, ডাকুয়া ও রতনদী তালতলী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি একসময় নৌকা ও ট্রলার চলাচলের অন্যতম পথ ছিল। পাশাপাশি খালের পানি স্থানীয় মানুষ গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গলাচিপা পৌরসভা এলাকা থেকে কালিকাপুর বাজার হয়ে উলানিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ে। খালের দুই পাড় দখল করে পর্যায়ক্রমে দোকানঘর, বসতবাড়ি, রিকশার গ্যারেজ ও পানের বরজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠে। এতে ধীরে ধীরে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক অংশের অস্তিত্বই হারিয়ে যায়।
সম্প্রতি জলাবদ্ধতা নিরসন ও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খালটি দখলমুক্ত করে খননের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলো। তবে খননকাজে দখলদারদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, গলাচিপা পৌরসভা এলাকা থেকে কালিকাপুর কালভার্ট পর্যন্ত খালের কিছু অংশের অস্তিত্ব এখনও দৃশ্যমান। কোথাও কোথাও খালটি সরু হয়ে গেছে, আবার কোনো কোনো অংশে তা খণ্ড খণ্ড ডোবার মতো অবস্থায় রয়েছে।
ডাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ফেরজা বেগম বলেন, ‘একসময় এই খালে নৌকা চলত। স্থানীয় লোকজন নানা গৃহস্থালি কাজে এর পানি ব্যবহার করতেন। এখন খাল দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি খাল নাকি খণ্ড খণ্ড ডোবা। খালটি খনন করা অত্যন্ত জরুরি।’
গলাচিপা পৌর এলাকার বাসিন্দা শংকর দাস বলেন, ‘দখলমুক্ত করে খাল খননের জন্য আমরা অনেক বছর ধরেই দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আগের কোনো সংসদ সদস্য বা মেয়র এ বিষয়ে উদ্যোগ নেননি। বর্তমান প্রশাসন ও চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন দেখা যাক, কাজ কতটা এগোয়।’
গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘খালটি আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের সময় পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল করিম হাওলাদার বলেন, ‘খালটি খনন করা হলে সাধারণ মানুষ এর পানি ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে এলাকার জলাবদ্ধতাও কমবে।’
মোস্তাফিজুর রহমান খন্দকার বলেন, ‘কালিকাপুর কালভার্ট থেকে মাটিভাঙা পর্যন্ত খালটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। খালটি খনন করা হলে ডাকুয়া, রতনদী তালতলী ও গলাচিপা সদর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।’
কালিকাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিঠু খন্দকার বলেন, ‘খালের দুই পাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। খননকাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারদের দখলদারদের নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত দখলমুক্ত করে পুরো খালটি খনন করা গেলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।’
স্থানীয়দের দাবি, খালটির পুরো অংশ দখলমুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যবহার বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের নৌপথটি আংশিকভাবে হলেও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।