
সাগরকন্যা প্রতিবেদক
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে পুলিশের উপস্থিতিতেই একাধিক ব্যক্তি মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মারধরের পর অনেককে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আবার কাউকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ব্যক্তিদের মারধর করতে দেখা যায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশকে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে অন্তত দুজনকে চড় মারতে দেখা যায়। এ সময় একজনকে ঝাড়ু দিয়েও মারধর করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে কয়েকজনের মুঠোফোনও পরীক্ষা করতে দেখা যায় তাকে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, সকাল থেকেই আয়াশ ও তার সঙ্গীরা ওই এলাকায় অবস্থান নেন। তারা সরাসরি মারধরে অংশ নেন এবং কয়েকজনকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের আয়াশ বলেন, ‘২০২৪-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আমরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মেনে নেব না। যারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করবে, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি। বিভিন্ন জেলায় নাশকতার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি বেঁচে থাকতে তা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।’
পুলিশের উপস্থিতিতে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জালাল বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনে মারা হয়েছে, এটা অসত্য। আমরা আটক করার আগেই সাংবাদিক ও উপস্থিত জনতা দু-একজনকে ধরে ফেলে এবং পিটিয়ে বের করে দেয়। আমি অনেক পরে এসে পৌঁছেছি। বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’
অন্যদিকে প্রটোকলজনিত বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল) মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুরো পরিস্থিতির তথ্য অফিসে ব্রিফ করার পর ডিএমপির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।