
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপুরুষের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা জলিল মৃধা এ অভিযোগ করেছেন।
জলিল মৃধা (৫০) দাবি করেন, তাঁর দাদা জবেদ আলী ও বাবা আব্দুল আলী মৃধার নামে থাকা প্রায় ১২ একর ৮৭ শতাংশ জমির তিনি ওয়ারিশ। কিন্তু স্থানীয় কবির হাওলাদার, আলাউদ্দিন হাওলাদার, রেজাউল হাওলাদার ও মস্তফা হাওলাদারসহ কয়েকজন ওই জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জলিল মৃধা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ভিক্ষা করে সংসার চালাই। আমাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু অর্থ ও প্রভাবের কারণে অন্যরা সেই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জলিল মৃধা প্রায় দুই বছর আগে আইনজীবী সাইদুল রহমানের মাধ্যমে আটজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে পটুয়াখালীর সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বলেও জানান।
জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমি কাটাখালী বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে পানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার স্বামী ভিক্ষা করেন। আমরা গরিব মানুষ। আমার শ্বশুরের সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীরা জোর করে সেগুলো ভোগদখল করছেন।’
অভিযোগে উল্লেখ করা জমির মধ্যে রতনদী তালতলী মৌজার ২৯৭ নম্বর খতিয়ান, জেল নম্বর ১০২ এবং ৫৩১, ৫৩২, ৫৩৩, ৫৩৪, ৫৪১ ও ৫৪৩ নম্বর দাগসহ আরও কয়েকটি দাগ রয়েছে বলে জানান জলিল মৃধা।
স্থানীয় ইয়াসিন রাড়ি বলেন, ‘জলিলের শ্বশুরের নামে অনেক সম্পত্তি রয়েছে। অর্থের অভাবে তারা সেসব জমি রক্ষা করতে পারছেন না। বর্তমানে তারা মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।’
স্থানীয় শিরিন বেগম বলেন, ‘জাহানারা বেগম ও জলিল মৃধা কাটাখালী বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে পানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের অনেক জমি ছিল বলে আমরা জানি।’
অভিযোগের বিষয়ে কবির হাওলাদার ও আলাউদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জলিল মৃধারা আসলেই গরিব মানুষ। তারা কাটাখালী বাজারে চায়ের দোকানে পানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের অনেক জমি ছিল।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মস্তফা খান বলেন, ‘দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তবে জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা ও কথিত জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা আদালতের নথিপত্রের স্বাধীন যাচাই ছাড়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারটি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।