জঙ্গলরাজ্যের বুক চিরে দাঁড়িয়ে অ্যাংকর ওয়াত

হোম » ফিচার » জঙ্গলরাজ্যের বুক চিরে দাঁড়িয়ে অ্যাংকর ওয়াত
শনিবার ● ১৫ আগস্ট ২০২৬


জঙ্গলরাজ্যের বুক চিরে দাঁড়িয়ে অ্যাংকর ওয়াত

সাগরকন্যা ডেস্ক

 

কম্বোডিয়ার জাতীয় পতাকার দিকে তাকালে চোখে পড়ে একটি মন্দিরের ছবি। পৃথিবীর আর কোনো দেশের জাতীয় পতাকায় এমন একটি স্থাপত্যের প্রতিকৃতি নেই- কম্বোডিয়ার পতাকায় স্থান পাওয়া সেই বিস্ময়কর স্থাপত্যের নাম অ্যাংকর ওয়াত। শুধু একটি মন্দির নয়, এটি কম্বোডিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্ম ও জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক।

 

একাদশ শতকে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল সভ্যতা। আজকের কম্বোডিয়ার সিয়াম রিপ শহর ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সেই হারিয়ে যাওয়া খেমার সাম্রাজ্যের স্মৃতি বহন করছে। পুরো শহরটিকেই অনেকটা প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যান বলে মনে হয়। প্রাচীন মন্দির, পাথরের দেয়াল, ভাস্কর্য আর ঘন সবুজ জঙ্গলের সহাবস্থান সিয়াম রিপকে দিয়েছে এক অনন্য চরিত্র।

 

কম্বোডিয়া ভ্রমণের মূল আকর্ষণই ছিল অ্যাংকর ওয়াত দেখা। তবে যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজধানী নমপেন থেকে। সেখান থেকে সিয়াম রিপ যাওয়ার দুটি প্রধান পথ- সড়ক ও আকাশপথ। সড়কপথে যাত্রা করেছিলাম। সময় লেগেছিল প্রায় আট ঘণ্টা।

 

কম্বোডিয়ার ২৫টি প্রদেশের মধ্যে পর্যটনের দিক থেকে সিয়াম রিপ সবচেয়ে পরিচিত। অ্যাংকর প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট টিকিট প্রয়োজন। টিকিটের সঙ্গে পর্যটকের ছবিও যুক্ত থাকে। এক দিন, তিন দিন ও সাত দিনের বিভিন্ন মেয়াদের টিকিট পাওয়া যায়। পুরো এলাকা ঘুরে দেখার জন্য নিয়েছিলাম তিন দিনের টিকিট।

 

অ্যাংকর ওয়াতের বিশালত্ব প্রথম দেখাতেই বোঝা যায়। পুরো চত্বর পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব। পর্যটকদের জন্য তাই রয়েছে ‘টুকটুক’- আমাদের দেশের অটোরিকশার মতো ছোট বাহন। এই বাহনেই মন্দির থেকে মন্দিরে ছুটে বেড়ানো যায়।

 

অ্যাংকর এলাকা বিশাল। বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা মন্দিরগুলোর নির্মাণশৈলী, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের বৈচিত্র্য চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। অ্যাংকর থম, বাপুন, ব্যয়ন, টেরাস অব দ্য এলিফ্যান্ট, টেরাস অব দ্য লেপার কিং, প্রেহ খানসহ অসংখ্য স্থাপনা ছড়িয়ে আছে এই প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে।

 

জঙ্গল থেকে জঙ্গলেই হারিয়ে যাওয়া এক সাম্রাজ্য

 

অ্যাংকর ওয়াতের গল্প আসলে খেমার সভ্যতার গল্প। খ্রিস্টীয় প্রথম শতক থেকেই এই অঞ্চলে খেমার জনগোষ্ঠীর বসতি ছিল। পরবর্তী সময়ে খেমার সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়ে দক্ষিণ ভিয়েতনাম, লাওস, মেকং নদী অঞ্চল থেকে পূর্ব মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে।

 

অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতককে খেমার সভ্যতার স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতকের মধ্যে অ্যাংকর ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নগরকেন্দ্র। রাজা, ধর্ম, স্থাপত্য ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এক সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।

 

খেমার রাজাদের নগর পরিকল্পনার দক্ষতা আজও বিস্ময় জাগায়। বিশাল পরিখা বা জলাধার দিয়ে অনেক স্থাপনা ও নগরকেন্দ্র ঘেরা ছিল। এগুলো শুধু প্রতিরক্ষার জন্য নয়, কৃষি, পরিবহন ও বাণিজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

 

খেমাররা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। কৃষির পাশাপাশি তারা ধাতব সামগ্রী, কাঠ, হাতির দাঁতসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বাণিজ্য করত। চীনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কথাও ইতিহাসে পাওয়া যায়।

 

১২৯৬ সালে চীনা পর্যটক ও কূটনীতিক ঝৌ দাগুয়ান অ্যাংকর ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত খেমার সাম্রাজ্যের তৎকালীন জীবন, সমাজ ও নগরব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হয়ে আছে।

 

ধর্মীয় বিশ্বাসেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসে। খেমার শাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে হিন্দুধর্মের পাশাপাশি বৌদ্ধধর্মের প্রভাব বিস্তার করে। রাজা সপ্তম জয়বর্মণের সময় বৌদ্ধধর্ম বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়। এই ধর্মীয় পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনও যুক্ত ছিল।

 

একসময় যে সভ্যতা জঙ্গল কেটে নগর গড়ে তুলেছিল, সময়ের প্রবাহে সেই নগরই আবার জঙ্গলে ঢেকে যায়।

 

বিষ্ণুর মন্দির থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য

 

অ্যাংকর ওয়াতের মূল আকর্ষণ তার কেন্দ্রীয় মন্দির। চারদিকে বিশাল পরিখা ঘেরা এই স্থাপনা হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক বিশ্বচিন্তার আদলে নির্মিত। মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়েছিল হিন্দু দেবতা বিষ্ণুকে।

 

রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। তাঁর শাসনামলেই অ্যাংকর ওয়াত নির্মাণের সূচনা হয়। খেমার রাজাদের ‘দেবরাজ’ ধারণার সঙ্গে মন্দির ও রাজশক্তির সম্পর্ক ছিল গভীর। রাজারা নিজেদের দেবতার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখতেন এবং মৃত্যুর পর তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে মন্দিরের সম্পর্ক তৈরি হতো।

 

অ্যাংকর ওয়াতের দেয়ালে পাথর খোদাই করে তুলে ধরা হয়েছে পৌরাণিক কাহিনি, যুদ্ধ, রাজদরবার, দেবদেবী ও অপ্সরাদের নানা দৃশ্য। সূক্ষ্ম কারুকাজের প্রতিটি স্তর যেন একটি করে গল্প বলে।

 

১৯৯২ সালে অ্যাংকর প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি কম্বোডিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণগুলোর একটি।

 

অ্যাংকর থম- পাথরের শহরে প্রবেশ

 

অ্যাংকর ওয়াতের পাশাপাশি অ্যাংকর থমও আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। ‘অ্যাংকর’ অর্থ শহর, আর ‘থম’ অর্থ বড়- অর্থাৎ বড় শহর।

 

রাজা সপ্তম জয়বর্মণের প্রতিষ্ঠিত অ্যাংকর থমের প্রবেশপথই যেন একটি আলাদা শিল্পকর্ম। বিশাল গেটের দুই পাশে সারি সারি দেবতা ও অসুরের পাথরের মূর্তি। মনে হয়, শত শত বছর ধরে তারা এখনো এই প্রাচীন নগরীর পাহারায় দাঁড়িয়ে আছে।

 

অ্যাংকর থমের ভেতরে ঢোকার পর নিজেকে কিছুটা পথহারা মনে হয়। বিশাল পরিসর, চারদিকে পাথরের স্থাপনা, গাছপালা আর নীরবতা- সব মিলিয়ে মনে হয়, সময়ের সীমানা পেরিয়ে অন্য এক যুগে চলে এসেছি।

 

এখানেই রয়েছে টেরাস অব দ্য এলিফ্যান্ট, টেরাস অব দ্য লেপার কিং, ফিমেন আকাশসহ নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। নামগুলোর উচ্চারণও প্রথমদিকে কঠিন লেগেছিল। তাই ভ্রমণের সময় ডায়েরিতে সবকিছু লিখে রাখার চেষ্টা করেছি। সেই নোটই পরে স্মৃতিকে সাজাতে সাহায্য করেছে।

 

পাথরে লেখা ইতিহাস

 

অ্যাংকর ওয়াত ও অ্যাংকর থমের দেয়ালে আঁকা অপ্সরা, দেবদেবীর মূর্তি ও পৌরাণিক কাহিনি আমাকে বারবার বিস্মিত করেছে। পাথরকে ক্যানভাস বানিয়ে খেমার শিল্পীরা যে সূক্ষ্মতার সঙ্গে ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাস তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ।

 

এই স্থাপনাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে মিসরীয় সভ্যতার কথা মনে পড়ে। পার্থক্য থাকলেও দুই সভ্যতার মধ্যেই পাথরকে ইতিহাসের ভাষায় পরিণত করার এক অসাধারণ ক্ষমতা দেখা যায়।

 

আর ‘জঙ্গলরাজ্য’ নামটিও তখন যথার্থ মনে হয়। কারণ প্রাচীন পাথরের স্থাপনার সঙ্গে গাছপালা ও জঙ্গলের যে সহাবস্থান এখানে দেখা যায়, তা অন্য কোথাও খুব সহজে পাওয়া যায় না।

 

স্পুংগাছের শিকড়ে ঢাকা প্রম টেম্পল

 

অ্যাংকর অঞ্চলের মন্দিরগুলো শুধু স্থাপত্যের জন্য নয়, প্রকৃতির সঙ্গে তাদের অদ্ভুত সম্পর্কের জন্যও বিখ্যাত। এর সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ প্রম টেম্পল।

 

মন্দিরজুড়ে ছড়িয়ে আছে স্পুংগাছ। কোথাও তার শিকড় মন্দিরের দেয়াল আঁকড়ে ধরেছে, কোথাও কাণ্ড পাথরের কাঠামোর ওপর দিয়ে উঠে গেছে। পুরনো মন্দিরের গায়ে রুপালি-ধূসর শিকড় ও শাখা-প্রশাখা তৈরি করেছে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য।

 

প্রম টেম্পলের জনপ্রিয়তার সঙ্গে হলিউডের ‘টুম্ব রাইডার’ চলচ্চিত্রেরও সম্পর্ক রয়েছে। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির বেশ কিছু দৃশ্য এখানে ধারণ করা হয়েছিল। ফলে স্পুংগাছ-ঢাকা মন্দিরের ছবি বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিত হয়ে ওঠে।

 

আজ পর্যটকদের কাছে এই গাছ এতটাই আকর্ষণীয় যে নির্দিষ্ট জায়গায় ছবি তোলার জন্যও অপেক্ষা করতে হয়।

 

প্রেহ খান- পাথরের ভেতর আরেক শহর

 

সিয়াম রিপের আরেক বিস্ময় প্রেহ খান মন্দির। অ্যাংকর ওয়াত থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট।

 

রাজা সপ্তম জয়বর্মণের আমলে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনা মূলত বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। প্রাচীরঘেরা মন্দিরটি অনেকটা ছোট একটি নগর বা দুর্গের মতো। একসময় বাইরের অংশে সাধারণ মানুষের বসতিও ছিল। আজ সেসব ঘরবাড়ির অস্তিত্ব নেই; টিকে আছে পাথরের কাঠামো, দেয়াল ও ভাস্কর্য।

 

এখানে রয়েছে একটি নাচঘর। দেয়ালে খোদাই করা নৃত্যরত অপ্সরাদের মূর্তি সেই সময়ের সংস্কৃতিচর্চার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

 

১৯৩৯ সালে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ মরিস গ্লিস প্রেহ খান মন্দিরের সংস্কার ও গবেষণার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

পিংক টেম্পলের সূক্ষ্ম কারুকাজ

 

সিয়াম রিপ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে বানতাই স্রেই। এখানকার মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে ‘পিংক টেম্পল’ বা ‘উইমেনস টেম্পল’ নামেও পরিচিত।

 

দশম শতকে নির্মিত এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর সূক্ষ্ম কারুকাজ। লালচে-গোলাপি বেলে পাথরের ওপর খোদাই করা ভাস্কর্য ও অলংকরণ এতটাই নিখুঁত যে কাছ থেকে দেখলে মনে হয় পাথর নয়, যেন কোনো সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম।

 

মন্দিরে প্রবেশের পথে লাভা পাথরের পথ। চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পুরনো পাথরের ধ্বংসাবশেষও পুরো পরিবেশে অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে।

 

সিয়াম রিপের বিভিন্ন মন্দিরে বেলে পাথর ও লাভা পাথরের ব্যবহার চোখে পড়ে। ভাস্কর্য ও দেয়ালের কারুকাজে বেলে পাথর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে স্থাপনার ভিত্তি, দেয়াল ও বহিরাংশের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে লাভা পাথর।

 

এক শহর, যেখানে ইতিহাস এখনো জীবন্ত

 

সিয়াম রিপের মন্দিরগুলো ঘুরতে ঘুরতে বারবার মনে হয়েছে, এগুলো কেবল ধ্বংসাবশেষ নয়। প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি পাথর, প্রতিটি ভাস্কর্য যেন কয়েক শ বছরের পুরনো কোনো গল্প বলছে।

 

কখনো মনে হয়, সেই প্রাচীন রাজ্যের রাজপথ ধরে হাঁটছি। কখনো কোনো পাথরের খোদাই চোখ আটকে দেয়। আবার হঠাৎ কোনো পাথরে হোঁচট খেলে মনে পড়ে- আমি একবিংশ শতাব্দীতেই দাঁড়িয়ে আছি।

 

অ্যাংকর ওয়াতের সবচেয়ে বড় বিস্ময় সম্ভবত এখানেই। এটি শুধু একটি মন্দির নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া একটি নগরসভ্যতার স্মৃতি। জঙ্গল কেটে যে সভ্যতার জন্ম হয়েছিল, সময়ের স্রোতে সেই সভ্যতা আবার জঙ্গলের ভেতরেই হারিয়ে গিয়েছিল। শত শত বছর পর সেই জঙ্গল সরিয়ে মানুষ যখন তার পাথরের স্মৃতি খুঁজে পেল, তখন বিশ্ব জানল- এই মাটির নিচে ঘুমিয়ে ছিল এক অসাধারণ নগরসভ্যতা।

 

আজ সেই সভ্যতার কেন্দ্র অ্যাংকর ওয়াত কম্বোডিয়ার জাতীয় পতাকায় স্থান পেয়েছে। পতাকার মাঝখানে থাকা মন্দিরটি তাই শুধু একটি স্থাপত্যের ছবি নয়- এটি একটি জাতির ইতিহাস, গৌরব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।

 

সিয়াম রিপ ছেড়ে ফেরার সময় মনে হচ্ছিল, অ্যাংকর ওয়াত আসলে দেখে শেষ করা যায় না। কয়েক দিন ঘুরেও এর সব দেয়ালের গল্প পড়া সম্ভব নয়, সব ভাস্কর্যের ভাষা বোঝা সম্ভব নয়। হয়তো এ কারণেই মানুষ বারবার ফিরে আসে এই জঙ্গলরাজ্যে- পাথরের ভেতর লুকিয়ে থাকা সেই হারানো সময়টাকে আরেকবার ছুঁয়ে দেখতে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৬:৪৮ ● ১৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ