বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় সেতু ভেঙে তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

হোম » ঝালকাঠী » বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় সেতু ভেঙে তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২৬


 

বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় সেতু ভেঙে তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাজাপুর (ঝালকাঠি)

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার ঝালোবাড়ি খালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনকারী জাহাজের ধাক্কায় একটি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার বড় একটি অংশের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সেতুটি ভেঙে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করলেও সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, পুটিয়াখালী এলাকার ঝালোবাড়ি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। কয়েক বছর ধরেই লোহার সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সোমবার খাল দিয়ে বালুবাহী জাহাজ যাওয়ার সময় সেতুতে ধাক্কা দিলে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

 

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় রাজাপুর উপজেলার আরুয়া, সোনারগাঁওসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পাশাপাশি কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার বড় একটি অংশের বাসিন্দারা সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়দের সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে।

 

এ সড়কের ওপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নির্ভরশীল। সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা তাসলিমা বেগম, হেমায়েত, নাদিম ও আবু মিয়া বলেন, ‘এই সড়কটি তিন উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।’

 

তারা অভিযোগ করেন, খালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে জাহাজের ধাক্কায় সেতুটি ভেঙে পড়েছে। যে জাহাজের ধাক্কায় সেতুটি ভেঙেছে, সেটি শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি সেতু নির্মাণের ব্যয় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়েরও দাবি জানান স্থানীয়রা।

 

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বালুবাহী জাহাজের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৬:০৮ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ