স্মার্টফোন কীভাবে ওয়াটারপ্রুফ করা হয়, জানুন ন্যানোকোটিং প্রযুক্তির রহস্য

হোম » প্রযুক্তি » স্মার্টফোন কীভাবে ওয়াটারপ্রুফ করা হয়, জানুন ন্যানোকোটিং প্রযুক্তির রহস্য
বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬


 

স্মার্টফোন কীভাবে ওয়াটারপ্রুফ করা হয়

সাগরকন্যা আইটি ডেস্ক

 

হাতে থাকা দামি স্মার্টফোনটি হঠাৎ পানিতে পড়ে গেলে কী হবে, এই চিন্তা অনেকেরই থাকে। তবে বর্তমানে বাজারে আসা বেশিরভাগ স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেটেই থাকছে পানি প্রতিরোধী প্রযুক্তি। এমনকি কিছু ডিভাইস পানির নিচেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সচল থাকতে পারে। কিন্তু জটিল ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে কীভাবে পানিরোধী করা হয়?

 

এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ন্যানোকোটিং প্রযুক্তি। এটি এক ধরনের বিশেষ সুরক্ষা আবরণ, যা এতটাই পাতলা যে মানুষের একটি চুলের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ পাতলা। এই আবরণ ডিভাইসের বিভিন্ন অংশে তৈরি করে অদৃশ্য সুরক্ষা স্তর।

 

ন্যানোকোটিং প্রক্রিয়ায় প্রথমে স্মার্টফোন বা গ্যাজেটকে একটি বিশেষ ভ্যাকুয়াম চেম্বারের ভেতরে রাখা হয়। এরপর সেখানে প্রবেশ করানো হয় উচ্চগতির বিশেষ গ্যাস, যাতে থাকে পানি প্রতিরোধী পলিমার। গ্যাসের মাধ্যমে ওই পলিমার ডিভাইসের পৃষ্ঠের সঙ্গে আণবিক স্তরে স্থায়ী বন্ধন তৈরি করে।

 

এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু ডিভাইসের বাইরের অংশেই নয়, বরং চার্জিং পোর্ট, হেডফোন জ্যাকসহ ভেতরের সূক্ষ্ম অংশগুলোতেও সুরক্ষা আবরণ তৈরি করে। ফলে পানি প্রবেশের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

 

বর্তমানে স্মার্টফোনে আইপি৬৭ ও আইপি৬৮ রেটিং বেশি দেখা যায়। এই রেটিং দিয়ে বোঝা যায় একটি ডিভাইস কতটা ধুলা ও পানি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এসব রেটিং অর্জনে ন্যানোকোটিংয়ের পাশাপাশি উন্নত সিলিং প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

তবে মনে রাখতে হবে, ওয়াটারপ্রুফ মানেই সব পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সিল বা পুরোনো ডিভাইসে পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই পানিরোধী প্রযুক্তি থাকলেও সতর্ক ব্যবহারই ডিভাইসের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

বাংলাদেশ সময়: ৯:০৫:১৬ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ