
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সোবাহানের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের পর এবার তার বিরুদ্ধে ভুয়া নামজারি দিয়ে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামের জাকির খান ও তার ভাইদের কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। টাকা ফেরত পেতে তারা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জাকির খান গত বছরের ১৩ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
জাকির খান, তার স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, আবদুস সোবাহান তাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। ২০২১ সালে জাকির খান, তার ভাই আফজাল খান ও নুর হোসেন খান এবং বোন হালিমা খানমের নামে গাববুনিয়া মৌজার ২৬ একর জমির নামজারি করতে আবদুস সোবাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। এ সময় নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি তার সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে ধাপে ধাপে আরও টাকা জমা দেন। সব মিলিয়ে তাকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন গড়িমসি করার পর ২০২২ সালে ১১ দশমিক ৩৬ একর জমির একটি নামজারির কাগজ ডাকযোগে পাঠান আবদুস সোবাহান। পরে ওই কাগজ ভুয়া বলে তারা জানতে পারেন। এরপর টাকা ফেরত পেতে তারা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সোবাহান বলেন, ‘তারা তাদের জমি আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছেন। আমার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ১০ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়া হয়েছে।’