
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক, দক্ষিণ বন্দর, মাছ বাজার, সদর রোড, পৌরসভা ভবনের সামনে, মন্দির রোড ও টাওয়ার রোডে দিনভর যানজট লেগে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসী, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, বেপরোয়া চলাচল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছেও বর্তমানে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের পাশাপাশি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং পাশের ভান্ডারিয়া, বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলা থেকেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক মঠবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করে। অদক্ষ ও কিশোর চালকদের বেপরোয়া গতিতে যান চালানো এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার কারণে পথচারীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক অবৈধ যানবাহন চলাচল করায় প্রশাসনের কার্যকর অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা আরিফা জান্নাত বলেন, ‘সকালে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ইজিবাইকের জটলার কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
আরেক বাসিন্দা অরবিন্দ সরকার বলেন, ‘প্রশাসনকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে অবৈধ যানবাহন চিহ্নিত করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. আতাউর রাব্বী বলেন, ‘ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এখন জাতীয় সমস্যা। মঠবাড়িয়ায় চলাচলরত যানবাহনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জনবহুল মঠবাড়িয়ায় যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিকল্প সড়ক না থাকায় দূরপাল্লার বাস শহরের মধ্য দিয়ে চলাচল করে, যা যানজট বাড়িয়ে দেয়। তবে ইজিবাইক চালিয়ে বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। তাই চালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই শহরকে যানজটমুক্ত করতে কার্যকর ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’