
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গোদার খাল ও কাটাখালী খালের কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ভরাট হয়ে থাকায় খাল দুটিতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে কৃষিজমিতে সেচ ও চাষাবাদে সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খালের পানিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দুটি পরিষ্কারের জন্য লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সরকারি সহায়তা না পেয়ে এলাকাবাসী গত শনিবার থেকে নিজেদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কচুরিপানা অপসারণ শুরু করেন।
এলাকাবাসী জানান, গোদার খাল ও কাটাখালী খাল স্থানীয় কৃষি, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন কচুরিপানা জমে থাকায় পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি দূষিত পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গোসল ও গৃহস্থালির কাজেও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সোবাহান মল্লিক, মকবুল সিকদার, শাহ আলম হাওলাদার ও আলকাস সিকদার সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে গোদার খাল ও কাটাখালী খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে।
স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার কামাল হোসেন বলেন, ‘খাল দুটি পরিষ্কার হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে। কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে, পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।’
স্থানীয়রা খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থায়ীভাবে নাব্যতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ সরকারি সহায়তা পেলে খাল দুটি দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখা সম্ভব হবে, যা এলাকার কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।