চরফ্যাশনে বকুল হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের কারাদণ্ড

হোম » ভোলা » চরফ্যাশনে বকুল হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের কারাদণ্ড
সোমবার ● ২৫ মে ২০২৬


চরফ্যাশনে বকুল হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

ভোলার চরফ্যাশনে গৃহবধূ বকুল বেগম হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডিতদের অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজাও দেওয়া হয়েছে।

রোববার চরফ্যাশন চৌকি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের পাশাপাশি এক আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার রায়ে আব্দুল মালেক পণ্ডিত, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আব্দুল মান্নানকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

একই ধারায় মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ রফিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া অপরাধীদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ ফিরোজ ও মোহাম্মদ সোহাগকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডবিধির ২০৩ ধারায় মোহাম্মদ আলম বাচ্চু মেলকারকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধির ১১০ ও ৪৩৬ ধারায় মোহাম্মদ কবিরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আসামি আজাদকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার আলামত বিধিমোতাবেক নিষ্পত্তি এবং আদায়কৃত জরিমানার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির সাজা অনুমোদনের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মামলার মূল নথি, রায়ের অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আলোচিত এ রায়কে স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর গভীর রাতে উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের মুজিবনগর ইউনিয়নের শিকদারের চর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আলম বাচ্চু মেলকারের বসতঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা গৃহবধূ বকুল বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর বড় বোন মুকুল বেগমও গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ২ ডিসেম্বর স্থানীয় অলিল চৌকিদার বাদী হয়ে দুলারহাট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এজন্য তিনি বিচারক মো. শওকত হোসাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


এসএফ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৪:০৫ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ