মেহেন্দিগঞ্জের সরকারি পাতারহাট আর.সি কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যতা; প্রশাসনিক স্থবিরতা

হোম » শিক্ষা » মেহেন্দিগঞ্জের সরকারি পাতারহাট আর.সি কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যতা; প্রশাসনিক স্থবিরতা
মঙ্গলবার ● ১৯ মে ২০২৬


 

মেহেন্দিগঞ্জের সরকারি পাতারহাট আর.সি কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যতা; প্রশাসনিক স্থবিরতা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল)

 

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি পাতারহাট রসিক চন্দ্র মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় আবারও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়েই চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। স্থায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকায় কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

 

গত ৯ এপ্রিল অবসরজনিত কারণে অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ গাউস মোসাদ্দেক দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর পদটি শূন্য হয়। এরপর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইলিয়াস শাহ। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

 

এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক ইকবালের অবসরের পর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

 

২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সরকারি বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খান মোহাম্মদ গাউস মোসাদ্দেক বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে যোগ দেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক বছরের মাথায় তিনি অবসরে গেলে পুনরায় শূন্য হয়ে পড়ে শীর্ষ পদটি।

 

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হালিম মনির বলেন, অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রয়োজন।

 

বাংলা বিভাগের প্রভাষক আশরাফুল আলম বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে একজন স্থানীয় শিক্ষক দায়িত্বে থাকায় তিনি বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এতে কলেজের কার্যক্রমে গতি আসছে না।

 

অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিন বলেন, স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় আমাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত একজন অভিজ্ঞ বিসিএস ক্যাডার অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া দরকার।

 

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি পাতারহাট রসিক চন্দ্র মহাবিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (অনার্স) মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৫২:১৫ ● ২৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ