কুয়াকাটায় মারধরের পর এবার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটায় মারধরের পর এবার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
সোমবার ● ১৮ মে ২০২৬


 

কুয়াকাটায় মারধরের পর এবার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার লাগোয়া লতাচাপলী ইউনিয়ন এলাকায় এক বৃদ্ধ ও তার পরিবারের ওপর হামলা, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ইমরান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় দেড় মাস আগে জয়নাল আবেদীনের ওপর হামলা চালায় প্রতিবেশী আমির হোসেন ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতা ইমরান। ওই সময় ইট দিয়ে আঘাত করে তার পা গুরুতরভাবে জখম করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুয়াকাটা এবং পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে আসেন।

 

পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পরও তাদের ওপর চাপ ও হয়রানি অব্যাহত থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও রবিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সেটি ভেঙে নিয়ে যায় ইমরান ও তার চাচাতো ভাই। এ সময় বাথরুমের বেশ কয়েকটি লাইটের বাল্বও চুরি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সময় ইমরান তার ছোট বোনের একটি হিজাব পরে উপস্থিত হয়ে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করে। তবে সিসি ক্যামেরা ভাঙার আগ মুহূর্তের একটি স্থিরচিত্র মোবাইল অ্যাপে সংরক্ষিত থাকায় ছবির মিল ধরে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন পরিবারটি।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাদের পুনরায় হামলা এবং জয়নাল আবেদীন ও তার দুই ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

 

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইমরানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

 

লতাচাপলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল শিকদার বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি থানা সভাপতিকে জানিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৭:০০ ● ২৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ