কলাপাড়ায় ট্যাক্সের নামে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় ট্যাক্সের নামে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬



 

কলাপাড়ায় ট্যাক্সের নামে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাকামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের নামে সামুদ্রিক মাছ শিকারি জেলেদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এই টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও একাধিক জেলের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময় নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ৭৭ দশমিক ৩ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় মৎস্য বিভাগ।

ইতোমধ্যে কলাপাড়ার কয়েকটি ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হলেও চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৮০৬ জন জেলে এখনও চাল পাননি। অভিযোগ রয়েছে, চাল পাওয়ার কথা বলে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে। অনেকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এসব টাকা আদায় করলেও রশিদ দেওয়ার পর তা ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার ছোট একটি ঘর আর অল্প কিছু জমি আছে। এই সম্পদের ট্যাক্স সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ টাকা হতে পারে। কিন্তু আমার কাছ থেকে রশিদ দিয়ে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক জেলে বলেন, আমাদের বলা হয়েছে চাল পেতে হলে ৫০০ টাকা করে ট্যাক্স দিতে হবে। টাকা না দিলে চাল দেওয়া হবে না। আমরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স দিতে রাজি, কিন্তু অতিরিক্ত টাকা কেন দিতে হবে?

চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুবক্কর বলেন, আমরা এখন শুধু নামেমাত্র মেম্বার। সব সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান একাই নেন। অনেক জেলের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্টারে তোলা হয়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চাকামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকির সাংবাদিকদের বলেন, জেলেদের চালের বিনিময়ে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। যাদের বকেয়া ট্যাক্স থাকে, তাদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী রশিদের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করা হয়। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, জেলে চাল পেতে কোনো ধরনের ট্যাক্স দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে নাগরিক হিসেবে নির্ধারিত সময়ে ট্যাক্স পরিশোধ করা উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৫:৫২ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ