
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে এক আমেরিকা প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের বৌলতলী গ্রামের প্রবাসী মো. সরোয়ার খলিফার ক্রয়কৃত জমিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরোয়ার খলিফার নিয়োজিত বর্গাচাষি আব্দুল খালেক হাওলাদার ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে বায়না সূত্রে মালিকানা দাবি করে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। এ ঘটনায় স্থানীয় বেলাল হাওলাদার, তোফাজ্জেল খলিফা, মনির হাওলাদারসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তরা দাবি করছেন, তারা খবির হাওলাদারের কাছ থেকে বায়না সূত্রে জমিটি ক্রয় করেছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের বৌলতলী মৌজার ১৯৫ নম্বর এসএ খতিয়ানে মোট ২ একর ৬৪ শতাংশ জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন আব্দুল হাই চেয়ারম্যান। পরে ভুক্তভোগী সরোয়ার খলিফার মা চাঁন ভানু ১৯৭২ সালে ১৬৩৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন।
পরবর্তীতে চাঁন ভানু তার ক্রয়কৃত জমির অংশ বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন এবং পুনরায় কিছু অংশ ক্রয় করেন। পরে তার ছেলে মো. সরোয়ার উদ্দিনও দলিলের মাধ্যমে জমির অংশবিশেষ ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁন ভানুর নামে জমি না থাকা সত্ত্বেও ২০০৯ সালে একই জমি বাড়তি বিক্রয় দেখিয়ে নতুন করে দলিল সম্পাদন করা হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয় এবং ওই মামলার রায় পূর্বের ক্রেতার বিপক্ষে যায়। এরপর সেই সূত্র ধরে খবির হাওলাদারের কাছ থেকে বায়না করে অভিযুক্তরা বর্তমানে জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী সরোয়ার খলিফা মুঠোফোনে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন। হঠাৎ একটি কুচক্রী মহল তার জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল হাওলাদার বলেন, আমরা খবির হাওলাদারের কাছ থেকে বায়না করে জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়েছি। জমিটি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় আমাদের বিপক্ষে গেলে আমরা জমি ছেড়ে দেব।
এমবি/এমআর