আমদানিকৃত রমজানের ভোগ্যপণ্য দেশে পৌঁছাতে শুরু হয়েছে

প্রথম পাতা » বিশেষ প্রতিবেদন » আমদানিকৃত রমজানের ভোগ্যপণ্য দেশে পৌঁছাতে শুরু হয়েছে
মঙ্গলবার ● ১২ মার্চ ২০১৯


---

সাগরকন্যা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট॥
রমজানের মাত্র দু’মাস বাকি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে রমজানের ভোগ্যপণ্য দেশে আসতে শুরু করেছে। রমজানে ছোলা, মোটর ডাল, ভুট্টা, চিনি ও ভোজ্য তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে চাহিদা অনুযায়ী দামও বাড়তে শুরু করে। কিন্তু তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানি হয়ে ব্যবসায়ীদের গুদামে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। আর আসার পথে রয়েছে প্রচুর ভোগ্য পণ্য। চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বহির্নোঙরে এ মুহূর্তে ৭টি জাহাজে ৫ লাখ টন রমজানের ভোগ্য পণ্য রয়েছে। ওসব জাহাজে ছোলা, মোটর ডাল, ভুট্টা, চিনি ও ভোজ্য তেল রয়েছে। তার বাইরে আরো ৭টি জাহাজে গম আছে প্রায় ৫ লাখ টন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আমদানিকারকদের প্রতিবছর রমজান এলেই জাহাজজট নিয়ে সংকটে পড়তে হয়। তবে গত বছর ওই জাহাজজট ছিল না। ফলে ব্যবসায়ীদের রমজানের পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হয়নি। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রমজানের পণ্য আনতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বহির্নোঙরে এ মুহূর্তে ৩৮ হাজার ৫৪১ টন ছোলা নিয়ে আছে আকরা জাহাজ। এক লাখ ১৮ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি নিয়ে আছে দুটি জাহাজ, প্রায় ৫৮ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন নিয়ে আছে একটি জাহাজ। এক লাখ ৬৯ হাজার টন ভুট্টা নিয়ে আছে ৩টি জাহাজ। তার বাইরে আরো সাতটি জাহাজে গম আছে প্রায় ৫ লাখ টন।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজট বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে রমজানের বেশ আগেভাগেই ভোগ্য পণ্য আমদানি করে মজুদ করতেন ব্যবসায়ীরা। তারা একসঙ্গে সব পণ্য না এনে ধাপে ধাপে মজুদের কৌশল নিয়েছে। তার অংশ হিসেবে রমজানের অন্তত আড়াই মাস আগে থেকেই আমদানিকারকরা ওসব পণ্য আনতে শুরু করেছে। যদিও ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর অন্তত দেড় মাস আগেই সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নিজেদের গুদামে মজুদ করে নিশ্চিন্ত হতেন।
সূত্র আরো জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট, লাইটার জাহাজ সংকট কাটিয়ে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাটগুলো অরাজকতা বন্ধ করা, ইউএস ডলারের লাগাম টানা এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার ঠিক রাখার বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা গেলে রমজানে বাজার অস্থিরতার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা জানান, এবার রমজানে বাজার অস্থির হওয়ার সুযোগ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। কারণ গত বছরেরও কিছু ছোলা অবিক্রীত আছে। তাছাড়া মিয়ানমার থেকে সড়কপথে ছোলা আসছে, অস্ট্রেলিয়া থেকেও বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরা ছোলা এনে গুদামজাত করেছে। তবে রমজানের বাজার কেমন হবে তা বুঝতে হলে আরো ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে এবার রমজানে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তুতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম জানান, মনে হয় না এবারও রমজানে জাহাজজট হবে। কারণ রমজান শুরুর আগেই বন্দরের সাধারণ কার্গো জেটিতে একটি বাড়তি জেটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একটি বাড়তি জেটি মানে প্রতি মাসে এক লাখ টন বাড়তি পণ্য ওঠানামার সুযোগ। আর কনটেইনার জেটিতে এখন কোনো জট নেই; রমজানেও হবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৬:৪১ ● ৪৮৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ