চরফ্যাশনে মাথা ন্যাড়া করে মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন!

প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ » চরফ্যাশনে মাথা ন্যাড়া করে মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন!
শনিবার ● ৩০ জুলাই ২০২২


চরফ্যাশনে মাথা ন্যাড়া করে মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন!

চরফ্যাশন (ভোলা) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজ চর আফজাল গ্রামে এ আজাহার আলী কওমি মাদ্রাসার শরেহ বেকায়া (একাদশ শ্রেণীর) ছাত্রকে মাথা ন্যাড়া করে ২দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। আহত শাহিন ছাড়া পেয়ে শনিবার পরিবার, সংবাদকর্র্মী ও থানা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, মাদ্রাসায় অনপুস্থিত থাকার অপরাধে মাদ্রাসার মোহতামিম(প্রধান) মাওঃ ইদ্রিস ও তার ভতিজা শিক্ষক মাওঃ মো. ইমাম হোসেন তুলে নিয়ে মাদ্রাসার মধ্যে ২দিন আটকে রেখে হাতে, পিঠে, মুখে আঘাত করাসহ অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করেন। শাহিন ওই কওমী মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
ঈদের ছুটির পর মাদ্রাসায় না আসায় তাকে জোরপূর্বক কমান্ডো স্টালে ধরে নিয়ে যায়। বুধবার মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক নুরুল ইসলাম ও শাহিনকে পাঠায়। তারা রাত ৯টায় মসজিদে শাহিনকে একা পেয়ে (প্রতিষ্ঠান প্রধান) মোহতামীম মাওঃ ইদ্রিস মাদ্রাসা নিয়ে শাহিনের হাত-পা বেঁধে ইদ্রিস ও তার ভাতিজা সহকারী শিক্ষক মাওঃ ইমাম দুজনে একত্রিত হয়ে এলোপাথারী মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। যাতে আহত শাহিন কোথাও না জানাতে পারে এজন্য মাদ্রাসার কক্ষে হাত বেঁধে আটকিয়ে রাখে। শুক্রবার রাতে ছাড়া পেয়ে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি হয়। শনিবার (৩০ জুলাই) পরিবার, সংবাদকর্মী ও প্রশাসনকে জানান। তৎক্ষনে তার হাতে, পিঠে মুখে আঘাতের ব্যাপক চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে স্থানীয় বাহারুল ইসলাম বলেন, এ আজাহার আলী কওমী মাদ্রাসার মোওতামীম ইদ্রিস মাওলানা একজন ভন্ড খনকার। এরা দুই ভাই বান, যাদু টোনাসহ সকল প্রকার খনকারী (ঝাড়ঁফুঁ) দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে। মাদ্রাসার আড়ালে থেকে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে অপকর্ম করে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।
ওই মোহতামীম ইদ্রিসের বড় ভাই মাও মোঃ কালু হুজুর ঘটনার কথা স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করেন এবং কঠিন বিচারের আশ্বাস দিয়ে আহত শাহিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওঃ ইমাম হোসেন বলেন, আমি চুল ছোট করতে বলেছি। মাদ্রাসার প্রধান মাওঃ ইদ্রিস তাকে আটকিয়ে মারধর করেছেন।
মাদ্রাসার দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত আবু মিয়া বলেন,শাহীনকে আমার কাছে আসতে বলেন।
এব্যাপারে চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির মিয়াকে আহত শাহিনের মাথা ন্যাড়া এবং গায়ে পিঠের আঘাতের চিহ্ন দেখালে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান বলেন, ছাত্র নির্যাতনের বিষয়টি বরদাসত করা হবেনা। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএইচ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ০:১৭:৫৭ ● ৩৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ