
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামের এক মোটরসাইকেলচালককে হত্যার পর তার মরদেহ গুমের ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তাজিম (২৮) এবং তার মা মোসা. রেহানা বেগম (৫০)। রায় ঘোষণার সময় রেহানা বেগম আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে তাজিম পলাতক রয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন বলেন, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাজিম ও আরও একজন যুবক উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলনকে তার মোটরসাইকেলসহ ভাড়া নেয়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি তার বাবা শাহাদত বাহাদুর নেছারাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে উঠে আসে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেফটি ট্যাংক থেকে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুমে তাজিমকে তার মা রেহানা বেগম সহযোগিতা করেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে আদালত শুনানি শেষে দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন।
রায়ে তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং মরদেহ গুমের দায়ে রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।