
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুর সদরের দুর্গাপুর ইউনিয়নে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গ্রাম পুলিশের সামনে ভাতিজাদের মারধরে এক চাচার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পার হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। পাশাপাশি প্রভাবশালী পক্ষের চাপে এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছেন একটি চক্র, এমন অভিযোগ নিহতের পরিবারের
স্থানীয় লোকজন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব দুর্গাপুর এলাকায় ৫৫ বছর বয়সী দিনমজুর মানিক সরদারকে প্রথমে তার বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করা হয়। পরে তার ভাই মজিবর সরদারের বাড়িতে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় মানিক সরদারের স্ত্রী ফরিদা বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মানিক সরদারের মৃত্যু হয়।
নিহত মানিক সরদার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের মৃত ছবেদ আলী সরদারের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে তার ভাতিজা রব্বি সরদার, আজিম সরদার, প্রতিবেশী রুবিন শেখ, সজিব ও সাইফুল মৃধাসহ কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন। ঘটনার সময় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মিকচান চৌকিদারের উপস্থিতির কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর থানায় নেয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, মামলা করতে গেলে থানা থেকে টালবাহানা করা হচ্ছে এবং আসামিপক্ষের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, এর আগেও জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের চারটি গরুকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মিকচান চৌকিদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নোমান মৃধা বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ বিচার দাবি করছি।’
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।