
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
লবণ বেশি খেলে কিডনির ওপরই সবচেয়ে আগে ও বেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে- এমন সতর্কতা দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)। সংস্থাটির তথ্যমতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সীমার বেশি লবণ গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে কিডনি রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, লবণ শরীরে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ালেও অতিরিক্ত গ্রহণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ। অনেকেই খাবারে লবণ কম হলে আলাদা করে কাঁচা লবণ খান, ফলে সারাদিনে মোট কতটা সোডিয়াম শরীরে যাচ্ছে- তার হিসাব থাকে না। এতে হৃদ্রোগ বা কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় কিডনির ক্ষতিই সবচেয়ে বেশি বলে উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত লবণ রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে কিডনির রক্তনালিতে অতিরিক্ত পানি টেনে আনে। এতে চাপ সৃষ্টি হয়ে রক্তনালি শক্ত ও সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে কিডনি স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। পাশাপাশি অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রস্রাবের সঙ্গে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ হতে পারে।
শুধু রান্নার লবণই নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, মাখন, পাউরুটি, চিজ, বিস্কুট ও বিভিন্ন সস থেকেও শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লবণ প্রবেশ করে। তাই দৈনিক মোট গ্রহণের হিসাব রাখা জরুরি।
আইসিএমআরের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে পাঁচ থেকে ছয় গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় এক চা-চামচ লবণ গ্রহণই নিরাপদ। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগ থাকলে কাঁচা লবণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা এবং লবণযুক্ত স্ন্যাক্স পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লবণের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত সাদা লবণের পরিবর্তে কম প্রক্রিয়াজাত সৈন্ধব লবণ বা সি সল্ট তুলনামূলক ভালো। তবে যারা নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে লবণ গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।