
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনার মধ্যেও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার মাছবাজারগুলোতে দিনের বেলাতেও এলইডি লাইট জ্বালিয়ে রাখার চিত্র পাওয়া গেছে। এতে বিদ্যুৎ অপচয়ের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকা সত্ত্বেও দোকান ও অভ্যন্তরীণ অংশে বিদ্যুৎচালিত এলইডি বাতি চালু রাখা হয়েছে। দিনের আলোতেও লাইট বন্ধ না করায় অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক ক্রেতা ও পথচারী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি দুর্বল থাকায় এমন অনিয়ম স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।
সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, দিনের আলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখা।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, বরিশাল মহানগর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। সংস্থাটি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিলিং, লোড ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওজোপাডিকোর এক কর্মকর্তা সাগরকন্যাকে বলেন, সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় বিদ্যুৎ দক্ষ ব্যবহার ও অপচয় রোধে গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বাজারে বাস্তবায়ন কাঠামো মূলত স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট মাছবাজারগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং বা তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে দৃশ্যমান কোনো নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘দিনে লাইট জ্বালানো অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু ক্রেতা আকর্ষণের উদ্দেশ্যে কেউ বাধা দেয় না। তাই সবাই যেভাবে খুশি সেভাবেই লাইট জ্বালিয়ে রাখে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সিটি কর্পোরেশনের নজরদারি ঘাটতির কারণেই সরকারি সাশ্রয় নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা হিসেবে ওজোপাডিকো সাশ্রয় সচেতনতার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের শৃঙ্খলা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে- তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার সরাসরি জাতীয় গ্রিডে বড় চাপ না ফেললেও এটি অপচয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের প্রবণতা বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচির কার্যকারিতা দুর্বল করে দেয়।
তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান, জরিমানা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা ছাড়া বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কঠিন।