
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাহাজঘাটে খেয়া পারাপার নিয়ে বিরোধের জেরে ট্রলার মাঝি সোহাগ চৌকিদার ও সোহেলকে মারধর করে আহত এবং একটি ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত সোহাগ চৌকিদারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে জাহাজঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়। এরপর থেকে বিদেশি কয়লাবাহী জাহাজ পায়রা বন্দরে নোঙর করে এবং সেখান থেকে লাইটার জাহাজে করে কয়লা এনে কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। এসব জাহাজ নদীর মাঝে নোঙর করে থাকায় সেখানকার শ্রমিকদের ঘাটে আনা-নেওয়ার জন্য খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
স্থানীয় সগির মিয়া জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দৈনিক প্রতি জাহাজ ৫০০ টাকায় লোক পারাপারের চুক্তি করেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইউপি সদস্য মো. জাহিদ খান আগের চুক্তিবদ্ধ হওয়া সগির মিয়াকে মারধর করে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে ইউপি সদস্য জাহিদ খান ও স্থানীয় ট্রলার মালিক ইলিয়াস চৌকিদারের মধ্যে ঘাটের দখল নিয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এরই জেরে গত সোমবার ইউপি সদস্য জাহিদ খানের লোকজন সগির মিয়া, তার স্ত্রী রোকেয়া ও বায়েজিদ গাজীকে মারধর করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা হয়। পরদিন শনিবার তালতলী থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করেন।
ইলিয়াস চৌকিদার বলেন, ‘সমঝোতা অনুযায়ী রবিবার সকালে আমি আমার ট্রলার দিয়ে মাঝি সোহাগ চৌকিদার ও সোহেলকে জাহাজের লোকজন পারাপারের কাজে পাঠাই। ওই সময় ইউপি সদস্য মো. জাহিদ খান ও তার বাবা পনু খানের নেতৃত্বে তিনটি ট্রলারে অর্ধশতাধিক লোক এসে সোহাগকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেয় এবং কুপিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে। অপর মাঝি সোহেল প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে তারা আমার ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে দেয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
স্থানীয়রা আহত সোহাগ চৌকিদার ও সোহেলকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার মেডিকেল অফিসার ডা. আইরিন আলম সাগরকন্যাকে জানান, গুরুতর আহত সোহাগ চৌকিদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. জাহিদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। উল্টো আমার ট্রলারের মাঝিকেই তারা মারধর করেছে। ঘাটে ট্রলার চালানো নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে তারা আবার মারধরের ঘটনায় জড়িয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’