ভাণ্ডারিয়ায় ইলিশহীন বৈশাখ: বাস্তবতার চাপে বদলাচ্ছে উৎসবের চিত্র

হোম পেজ » সর্বশেষ » ভাণ্ডারিয়ায় ইলিশহীন বৈশাখ: বাস্তবতার চাপে বদলাচ্ছে উৎসবের চিত্র
রবিবার ● ১২ এপ্রিল ২০২৬


 

বলেশ্বর ও কঁচা নদীর মোহনা সংলগ্ন বোথলা নামক স্থানে নোঙ্গর করা ফিশিং বোট। ছবি- সাগরকন্যা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আনন্দ, রঙ আর লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য থাকলেও পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এবার উৎসবের চিত্রে এসেছে ভিন্নতা। ইলিশের ঘাটতি ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার চাপে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশের আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে গেছে, যা উৎসবের পরিবর্তিত রূপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ‘এসো হে বৈশাখ’ সুরে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে আগের মতোই। তবে পান্তা-ইলিশ কিংবা ডিম-পান্তার মতো আয়োজন এবার রাখা হয়নি।

 

এক সময় বৈশাখের সকাল মানেই ছিল পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণে ভরা আয়োজন। চিড়া, মুড়ি, দুধ-দইয়ের পাশাপাশি ইলিশ ছিল উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন সেই চিত্র অনেকটাই স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

 

মাঠ, ঘাট ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের আড়ৎ, জেলেপল্লি কিংবা নদীঘাট—কোথাও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের সরবরাহ নেই। যা দু-একটি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ছোট আকারের ঝাটকা এবং দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

 

জেলে রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, ‘আগে নদী-সাগরে মাছ পাওয়া যেত, এখন খুঁজেও পাওয়া যায় না। খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়।’ একই ধরনের কথা বলেন জেলে মো. সবুজ ও মো. আমির হোসেন। তারা জানান, জ্বালানি সংকট, দাদনের চাপ ও মাছের অভাব—সব মিলিয়ে তাদের জীবন এখন টিকে থাকার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

 

পাড়ের হাটের পুরোনো আড়ৎদার মেসার্স রাবেয়া ফিশিং বোর্ডের মালিক মো. এলিন খান জানান, আগে যেখানে অসংখ্য ট্রলার সাগরে যেত, এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বড় ইলিশ প্রায় নেই বললেই চলে, মাঝারি মাছও সীমিত। তিনি বলেন, মাঝারি আকারের (৩০০–৪০০ গ্রাম) এক পোন (৮০ পিস) ইলিশের আড়ৎ মূল্য ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা।

 

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, প্রজনন শেষে বড় ইলিশ সাগরে চলে যাওয়ায় স্থানীয় নদীতে এখন ঝাটকা বেশি দেখা যাচ্ছে, যা ধরা নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত টানা ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে বৈশাখে ইলিশের সরবরাহ সীমিত থাকবে এবং দামও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে রামছোচ, পোয়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ কিছুটা পাওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৮:১১ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ