দেশে হামের সংক্রমণ আরও এক মাস থাকতে পারে

হোম পেজ » সর্বশেষ » দেশে হামের সংক্রমণ আরও এক মাস থাকতে পারে
রবিবার ● ১২ এপ্রিল ২০২৬


 

সংগৃহীত ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৮ দিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৭৯ জনের। পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৮৯ জনের, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও এক মাস অব্যাহত থাকতে পারে, তবে মৃত্যুহার কমতে সময় লাগতে পারে প্রায় দুই মাস।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত শিশু, ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্নদের ঝুঁকি বেশি। টিকাই এ রোগ থেকে সুরক্ষার প্রধান উপায়।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, বর্তমানে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে টিকাদান কার্যক্রম সীমিতভাবে চলছে। গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হবে। তিনি জানান, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এক মাসের মধ্যে সংক্রমণ কমে আসতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, দরিদ্র পরিবারের জ্বরাক্রান্ত শিশুদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে মায়ের সঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এতে শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং সংক্রমণও কমবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের হাসপাতালে এনে পর্যবেক্ষণে রাখলে জটিলতা কমবে এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোও রোধ করা সম্ভব হবে।

 

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে টিকাদান কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দিচ্ছেন না; স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে অভিভাবকদের শিশুদের টিকা দিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে গণটিকাদান শুরু হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরাঞ্চলে জ্বরাক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

 

চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে প্রায় ৭০ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। র‍্যাশ ওঠার আগে ও পরে মিলিয়ে ৭ থেকে ৯ দিন পর্যন্ত রোগী সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই প্রধান ভরসা। জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

 

দেশে হামের সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নমুনা সংগ্রহ ও তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে, ফলে অনেক রোগী নিশ্চিত শনাক্ত না হয়ে সন্দেহভাজন হিসেবেই থাকছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সন্দেহে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ জন এবং সন্দেহজনকভাবে আক্রান্ত হয়ে ৮৮৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ১১ এপ্রিল প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের এবং সন্দেহভাজন হিসেবে মৃত্যু হয়েছে ১৪৫ জনের। একই সময়ে নিশ্চিত আক্রান্ত ২ হাজার ৪৮৯ জন, সন্দেহভাজন আক্রান্ত ১৪ হাজার ৩৮৫ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৩ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭ হাজার ২২ জন।

বাংলাদেশ সময়: ৯:০৫:৫২ ● ৫৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ