
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মসজিদের পুকুরের মাছ রাতের আঁধারে গোপনে ধরা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই মসজিদের মুসল্লীসহ স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের রত্নপুর শাহী বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রায় একশত শতাংশ আয়তনের পুকুরের মাছ মঙ্গল, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে কাউকে না জানিয়ে জাল ফেলে ধরা হয়। পরে স্থানীয় সাইফুল হাওলাদারের নছিমন গাড়িতে করে মাছগুলো প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মাহিলাড়া বাজারে নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, এ ঘটনায় মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, রত্নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাল মিয়া ও বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শিকদারে সংশ্লিষ্টতা ছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল হাওলাদার সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে জানান, ভোরে অজু করতে এসে তিনি দেখতে পান মাছ নছিমনে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার মতে, মসজিদের পুকুরের মাছ বিক্রি করতে হলে আগে মসজিদ কমিটিতে আলোচনা করা উচিত ছিল।
মুসল্লী ছরোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি মসজিদে কখনোই আলোচনায় আসেনি, এমনকি জুমার নামাজের সময়ও কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, মাছ ধরা বা বিক্রির বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। তিনি বলেন, তিন বছর আগে নিজের অর্থে ওই পুকুরে পোনা মাছ ছাড়া হয়েছিল।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম লাল মিয়া দাবি করেন, মাছ রোগাক্রান্ত হওয়ায় তা ধরা হয়েছে এবং ইমাম বিষয়টি কমিটির সভাপতিকে না পেয়ে তাকে জানিয়েছিলেন।
অপর অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবাইকে জানিয়ে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য মাছ ধরা ও বিক্রি করা হয়েছে।