দক্ষিণ এশিয়ায় দক্ষ শিক্ষকের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

হোম পেজ » শিক্ষা » দক্ষিণ এশিয়ায় দক্ষ শিক্ষকের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ
রবিবার ● ১২ এপ্রিল ২০২৬


 

ছবিঃ ইন্টারনেট থেরেক সংগৃহীত

সাগরকন্যা ডেস্ক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর সর্বশেষ বৈশ্বিক শিক্ষা পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষকের হারে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে। যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটান মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করতে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে, সেখানে বাংলাদেশে শিক্ষকদের অপ্রতুল প্রশিক্ষণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো সংকটকে আরও তীব্র করেছে। দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হলেও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

 

ইউনেস্কোর নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী- শিক্ষকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট স্তরের উপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা- এই দুই সূচকে বাংলাদেশের চিত্র দুর্বল। দেশে মাধ্যমিক স্তরে গড়ে দক্ষ শিক্ষকের হার ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিকে ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষক এই মানদণ্ড পূরণ করেন, যা দুই স্তরেই ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

 

অন্যদিকে, একই সূচকে মালদ্বীপ সবচেয়ে এগিয়ে। দেশটিতে নিম্ন মাধ্যমিকে দক্ষ শিক্ষকের হার ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে মাধ্যমিক স্তরে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

 

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতির পেছনে প্রধান দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; এমনকি ভুয়া সনদ ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সময় এসব অনিয়ম বেশি দেখা গেছে।

 

দ্বিতীয়ত, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না পাঠিয়ে অন্য বিষয় বা পরিচিতজনদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। ফলে গণিতের প্রশিক্ষণে বাংলা বা ধর্মীয় শিক্ষার শিক্ষক অংশ নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কার্যকর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও তা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

সামগ্রিকভাবে, দক্ষ শিক্ষক সংকট দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ১০:১০:০৪ ● ৫৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ