
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জড়িয়ে ধরার ছবি ভাইরাল করার অভিযোগে বরগুনার আমতলীতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামের এক পরিবহন চালকের মেয়ে ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়া সরকারি হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীকে একই গ্রামের জিসান নামে এক কলেজছাত্র প্রেমের প্রস্তাব দেয়। একইভাবে অপর এক যুবক আরাফাত ওই শিক্ষার্থীর ছোট বোনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। দুই বোনই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে জিসান ও আরাফাত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন আগে অটোরিকশায় করে যাওয়ার পথে জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে ধরে তার ছবি মোবাইলে ধারণ করে জিসান। পরে দুই বোনকে প্রেমে রাজি না হলে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরও প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বুধবার ওই ছবি ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, গত রবিবার বিকেলে জিসান তাদের বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর একদিন পর সোমবার সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থী বাড়ির গোসলখানায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিহতের বাবা জানান, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা হারুন খান বলেন, ‘ওই দুই যুবক প্রায়ই দুই বোনকে উত্ত্যক্ত করত। তাদের কারণেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।