
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পৃথক দুটি সংঘর্ষে চার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় বিএনপির একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একটি দোকান থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধারের ঘটনায় সোহেল (২৫) নামে একজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে এবং মধ্যরাতে কেশবপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- কালাইয়া ইউনিয়নের রায়হান (১৭) ও ফারুক হাওলাদার (৪৫), এবং কেশবপুর ইউনিয়নের নাইম (২৯) ও সাঈদ (৩১)। এদের মধ্যে রায়হান ও ফারুকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে জামায়াতের একটি প্রচার মিছিল চলাকালে একজন বিএনপি সমর্থক ধানের শীষের স্লোগান দেয়। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে উভয় দলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রায়হান নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে দুটি দেশীয় রামদা উদ্ধার করে দোকানি সোহেলকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার জের ধরে একই এলাকায় সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফারুক হাওলাদার নামের এক জামায়াত সমর্থককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াসের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী গিয়াস বলেন, জামায়াতের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে হঠাৎ আমাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ছাত্রদল নেতা রায়হানকে কুপিয়ে জখম করে। ফারুক হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনায় আমি জড়িত নই।
আটক দোকানি সোহেল জানান, তার দোকান থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের সময় কেউ নজর এড়িয়ে তার দোকানে রামদা রেখে যেতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে, মধ্যরাতে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাঈদ ও নাইম নামের দুই জামায়াত সমর্থককে মারধর করা হয়। জামায়াতের সমর্থক শাহিন বলেন, আমরা নির্বাচনী ক্যাম্পের ধারে কাছেও যাইনি। দোকানের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের কয়েকজন কর্মীর ওপর বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।