পটুয়াখালী-৪: বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

হোম পেজ » পটুয়াখালী » পটুয়াখালী-৪: বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
মঙ্গলবার ● ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


পটুয়াখালী-৪: বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আরও সক্রিয় হয়েছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটির অংশগ্রহণ না থাকায় ভোটের হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন। অন্যদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছেন ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৭ হাজার ৬৬১ জন এবং নারী ভোটার ৪৭ হাজার ২০৩ জন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন (ধানের শীষ) বলেন, নির্বাচিত হলে পায়রা বন্দর ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে ঘিরে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের দলীয় ভোটের পাশাপাশি ভাসমান ভোটের বড় অংশ তাদের পক্ষে যেতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান (হাতপাখা) বলেন, তিনি ইসলামী আদর্শ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জনগণ পরিবর্তন চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাইউম দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ১০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদকে (দেয়াল ঘড়ি) সমর্থন দিয়েছেন। তিনি রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং এলাকায় সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদারে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য মো. রবিউল হাসান (ট্রাক) সংস্কারমুখী রাজনীতির বার্তা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরাসরি প্রভাব না ফেললেও ভোট বিভাজনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতায় তারা ক্লান্ত। তারা উন্নয়ন, শান্তি ও কর্মসংস্থান চান। ভোটার নুর ইসলাম বলেন, তারা এমন প্রতিনিধি চান, যিনি দলীয় প্রভাব নয়, জনগণের অধিকার নিয়ে কাজ করবেন।
পটুয়াখালী-৪ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দখলে ছিল। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বহুমাত্রিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমবি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৭:১২ ● ৩৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ