
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
আমতলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের গাড়ী চালক মোঃ সোহেল রাঢ়ীর নামে কালিবাড়ী খালের একাংশের ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার দুপুরে সোহেল ওই জমিতে কাজ করতে গেলে প্রতিবেশীরা বাধা দেন। পরে খালের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে কয়েক শত নারী-পুরুষ আমতলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শত বছরের পুরানো খালটি চাওড়া ইউনিয়নের পানি প্রবাহিত করে এবং হাজার হাজার কৃষক এই পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করে। খালে বাঁধ দিলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কালিবাড়ী খালের পাড়ে বসবাসকারী খালেদা বেগম ও ফাতেমা বেগম বলেন, খালের পানি গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত হয়। বাঁধ দিলে শুকনো মৌসুমে পাঁচ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আমতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী জামান রাকিব সাগরকন্যাকে বলেন, হাজার হাজার কৃষকের ক্ষতি করে খাল বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। তিনি দ্রুত বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানান।
অন্যদিকে গাড়ী চালক মোঃ সোহেল রাঢ়ী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চাওড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে তাকে খানা প্রদান করা হয়। তিনি ২৯ নং চাওড়া মৌজার ১২১৫, ১৫২৮ ও ২৩২৫ নং দাগে ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেছিলেন। সোহেল জানান, স্থানীয়রা তার শ্রমিকদের মারধর করেছে এবং নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে গেছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। যদি কৃষকদের জন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে বন্দোবস্ত বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হবে।