নেছারাবাদে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও বিধবাকে হয়রানির অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও বিধবাকে হয়রানির অভিযোগ
শনিবার ● ১৩ জুন ২০২৬


 

নেছারাবাদে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও বিধবাকে হয়রানির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে এক বিধবা নারীর জমি দখল এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। উপজেলার মাহমুদকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে স্বামীহারা সালেহা পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আকতার হোসেনের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের জমি উদ্ধার করে দিন। আমরা দীর্ঘদিনের এই হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাই। শান্তিতে বাঁচতে চাই।

 

ভুক্তভোগী মৃত হাজী মোহাম্মদ আবুল বাশারের স্ত্রী সালেহা পারভীন ও তার পরিবারের অভিযোগ, ২০১১ সালে ক্রয় করা তাদের ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক দখল করেছেন আকতার হোসেন। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

 

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে হাজী মোহাম্মদ আবুল বাশার মাহমুদকাঠী এলাকায় স্থানীয় আমজেদ আলীর ছেলে লিটনের কাছ থেকে ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমিতে তিনি একটি বসতঘর নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রোপণ করেন। পরবর্তীতে ওই ঘরটি ভাড়া দেওয়া হয়। একই সময়ে আকতার হোসেনও একই মালিকপক্ষের বড় ভাই জবেদের কাছ থেকে পৃথক অংশে সমপরিমাণ জমি ক্রয় করেন।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি ক্রয়ের সময় দলিলে ভুলবশত আবুল বাশারের জমির দাগ উল্লেখ হওয়ায় পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ জটিলতা নিরসন এবং আকতার হোসেনের দলিল বাতিলের দাবিতে আবুল বাশার আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আকতার হোসেন তার শ্বশুর, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ এম এ শাহ আলমের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলে নেন।

 

ভুক্তভোগীর মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বাবাকে চরমভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় অবস্থানকালে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার সন্ধান পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। এছাড়া জমি বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া এবং আবুল বাশারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

জমির মূল মালিকপক্ষের সদস্যদের দাবি, তাদের দুইটি দাগে মোট ৬১ শতাংশ জমি ছিল। নিয়ম অনুযায়ী আকতার হোসেন বড় ভাই জবেদের অংশ এবং আবুল বাশার মেজ ভাই আমজেদের সন্তানদের অংশ ক্রয় করেন। তবে পরে আবুল বাশারের ভোগদখলে থাকা জমিও আকতার হোসেন দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি উভয় অংশই এককভাবে ভোগদখল করছেন বলেও দাবি করেন তারা।

 

আবুল বাশারের বাড়ির সাবেক ভাড়াটিয়া দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ওই ঘরে সপরিবারে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলাম। কিন্তু আকস্মিকভাবে এক রাতে পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক এএসপি আকতার হোসেন বলেন, আমাদের জমি নিয়ে মামলা চলছে। মূল ঝামেলা আলাউদ্দিনকে কেন্দ্র করে। আমি খতিয়ানে যে পরিমাণ জমি কিনেছি, তার মধ্যে বর্তমানে চার শতক কম দখলে আছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগদখলে আছি। সেখানে কোনো বসতঘর ছিল না এবং কারও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা হয়নি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

 

এদিকে সালেহা পারভীন জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুরের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ০:১৫:২৬ ● ২৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ