
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি দান সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছোট বালিয়াতলী এম.এম.এ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আ.ব.ম ফায়েজ উল্লাহ।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ১০ শতাংশ জমিদাতা মেছের আলী খানের ছেলে আবদুল জব্বার খান, ৮ শতাংশ জমিদাতার ছেলে আবদুর রহমান থানের ছেলে শাহিন খান, মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী রউফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে আ.ব.ম ফায়েজ উল্লাহ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট বালিয়াতলী এম.এম.এ দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ছোট বালিয়াতলী মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামের ইউসুফ আলী সিপাইয়ের পিতা মরহুম সেকান্দার আলী সিপাই ও অপর এক দাতা ১৯৭৯ সালে মাদ্রাসার নামে মোট ১৩ শতাংশ জমি দান করেন। কিন্তু দানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে না দেওয়ায় দাতার ওয়ারিশদের সঙ্গে বিরোধ চলমান রয়েছে।
এই বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার ইউসুফ আলী সিপাই ও তার সহযোগীরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধন করেন বলে দাবি করেন সুপার।
মানববন্ধনে অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ এবং একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতিকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি করার অভিযোগ আনা হয়- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
আ.ব.ম ফায়েজ উল্লাহ আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুসরণ করে যথাযথভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন ও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিধি-বিধান মেনে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি কোনোদিনই কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব অভিযোগ তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এ কারণে তিনি ওই মানববন্ধনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে ইউসুফ আলী সিপাই বলেন, তার বাবা মাদ্রাসার জমিদাতা এবং জমি দানের পরই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রাসার কমিটি গঠন ও নিয়োগ বাণিজ্যে অনিয়ম আড়াল করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।