আমতলীতে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল বাস মালিকের স্বপ্ন

হোম পেজ » লিড নিউজ » আমতলীতে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল বাস মালিকের স্বপ্ন
শুক্রবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২৫


রাতে আগুন দেওয়ার পর এভাবেই জ্বলছিল বাসটি, পাশে আগুন দেওয়ার অভিযোগে আমতলী থানায় আটককৃত সন্দেহভাজনরা।

সাগরকন্যা প্রতিনিধি, আমতলী (বরগুনা)

আমতলী পৌর শহরের ফেরিঘাট সড়কে পার্কিং করা স্বর্ণা পরিবহন বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেওয়ায় পুড়ে গেছে বাস মালিক শহীদ দেওয়ানের বহুদিনের স্বপ্ন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে।

জানা যায়, আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বাস মালিক শহীদ দেওয়ান ২৫ বছর ধরে কষ্টে একটি মাত্র বাস তৈরি করেন। মেয়ের নামে স্বর্ণা পরিবহন নামের ওই গাড়িটি বরিশাল–কুয়াকাটা সড়কে চলাচল করতো। প্রতিদিনের মতো ফেরিঘাট সড়কের গাজী বাড়ির সামনে ৮টি বাস পার্কিং করা ছিল। সামনে রাখা স্বর্ণা পরিবহন বাসটিতে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গেলেও ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক শহীদ দেওয়ান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ খান, পৌর যুবলীগ সদস্য তন্ময় গাজী, কাওসার রনি এবং সগির মল্লিককে আটক করেছে পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাব্বির হাওলাদার জানান, হেল্পারের ডাকাডাকি শুনে বাইরে বের হয়ে গাড়িতে আগুন দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তবে তারা আসার আগেই বাসটি পুড়ে যায়।

বাস মালিক শহীদ দেওয়ান বলেন, দুর্বৃত্তরা ইচ্ছে করেই তার বাসে আগুন দিয়েছে। তার অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছালে এতো বড় ক্ষতি হতো না।

বাস মালিকের ছোটভাই ও আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউপি সদস্য বাতেন দেওয়ান বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবারের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসে আগুন না লাগিয়ে তার ভাইয়ের গাড়িতে আগুন দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বরগুনা বাস মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক অহিদুজ্জামান সজল মৃধা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিন জেলার বাস ফেরিঘাট সড়কে পার্কিং করা হয়। স্বর্ণা পরিবহন বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সমিতির পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ সাগরকন্যার এই প্রতিবেদককে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নইলে আরও ক্ষতি হতো।

আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। আরও কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:০৯:৪৪ ● ২১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ