নেছারাবাদে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা, থানায় অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা, থানায় অভিযোগ
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬


 

নেছারাবাদে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা, থানায় অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ‘দারুসুন্নাত দীনিয়া একাডেমি হিফজখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ মাদ্রাসার জমি দখলে রাখা এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন মো. শহিদুল্লাহ। তবে বিরোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে সীমানা নির্ধারণ ও সমাধানের কথা উঠে এসেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার জমির সীমানা নির্ধারণ করে কয়েক দফা সালিশের মাধ্যমে পিলার স্থাপন করা হলেও সেগুলো উপড়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া জমি দখলে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পাশাপাশি থাকা জমির মধ্যে আব্দুল কুদ্দুসের নামে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং মাদ্রাসার নামে ৫ দশমিক ৫৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের দান করা মাদ্রাসার জমিতে অনুপ্রবেশ করে আব্দুল কুদ্দুস রান্নাঘর নির্মাণ ও মৌসুমি গাছপালা রোপণ করে দখলে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেনের বড় ভাই ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে আব্দুল কুদ্দুস বাধা দেন ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর হোসেন জীবিত থাকাকালে আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পরে তৎকালীন ওসির নির্দেশে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। একাধিক বৈঠক শেষে ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট সালিশদারেরা সিদ্ধান্ত দেন, আব্দুল কুদ্দুসকে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দিয়ে অবশিষ্ট জমি জাহাঙ্গীর হোসেনকে দেওয়া হবে।

 

পরে সীমানা নির্ধারণ করে স্থাপন করা পিলারগুলো আব্দুল কুদ্দুস উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষের নিয়োগ করা সার্ভে আমিনের মাধ্যমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নতুন করে সীমানা পিলার স্থাপন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

 

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ নিয়ে গ্রাম্য আদালতে মামলা চলছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে। আগের সীমানা পিলার কেন তুলে ফেলা হয়েছিল, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

 

জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাগনে রাহাত জানান, তাঁর মামা মারা যাওয়ার পর কোনো ওয়ারিশ না থাকায় তাঁরা সবাই মিলে মামার জমি মাদ্রাসায় দান করেন। বর্তমানে সেখানে ‘দারুসুন্নাত দীনিয়া একাডেমি হিফজখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ পরিচালিত হচ্ছে। আব্দুল কুদ্দুস সীমানার পিলার তুলে ফেলেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে লোকজন ডেকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয় এবং আব্দুল কুদ্দুসকে তাঁর ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আর কোনো সমস্যা নেই বলেও জানান রাহাত।

 

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওমর ফারুক জানান, শহিদুল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি তাঁকে দায়িত্ব দেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদ্রাসার সীমানা পিলার স্থাপনসহ শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধের সমাধান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৯:২৮ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ