
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসতবাড়িতে প্রবেশ, জমি দখলের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন মো. সেলিম মুন্সী। এ ঘটনায় বুধবার মহিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মুন্সী দাবি করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মো. জাহিদুর ইসলাম ওরফে সুমনের লোকজন তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে হুমকি দিয়েছেন। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান।
মহিপুর থানায় করা জিডি সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ লতাচাপলী মৌজার বিএস ১১২২ নম্বর খতিয়ানের ৪০৯১ নম্বর দাগে মোট ১ একর ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে সেলিম মুন্সীর সঙ্গে মো. জাহিদুর ইসলাম ওরফে সুমনের বিরোধ রয়েছে। সেলিম মুন্সীর দাবি, তিনি ১৯৯৫ সালে এসএ রেকর্ডীয় মালিক মফেজ উদ্দিনের ছেলে আবদুল আজিজ মুন্সীর কাছ থেকে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ওই জমি কিনে বসতবাড়ি ও বাগান করে ভোগদখলে আছেন।
জিডিতে সেলিম মুন্সী অভিযোগ করেন, তাঁর ক্রয়কৃত জমির সীমানার ভেতর থেকে আবদুল আজিজ মুন্সীর বোনের ছেলে ওয়ারিশ মোশারফ হোসেন ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি জাহিদুর ইসলাম ওরফে সুমনের নামে দলিল করে দেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁকে জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১৭ আগস্ট কলাপাড়া সিনিয়র জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন সেলিম মুন্সী। মামলাটির নম্বর ৪৩১/২০২৬। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ওই মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত বিরোধীয় জমিতে জাহিদুর ইসলাম ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। ওই আদেশে বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ, বাদীপক্ষকে বেদখল করা, ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং জমির আকার-আকৃতি বা প্রকৃতি পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন সেলিম মুন্সী।
সেলিম মুন্সীর অভিযোগ, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞার পরও বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে জাহিদুর ইসলাম ওরফে সুমন তাঁর বসতবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর ছেলে মো. শাহিন মিয়াসহ অন্যদের উপস্থিতিতে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি। পরে যেকোনো সময় এসে জমি দখল করে নেওয়ার কথা বলে জাহিদুর ইসলাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করেন সেলিম মুন্সী।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় সেলিম মুন্সী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জাহিদুর ইসলাম ওরফে সুমন বলেন, ২০২২ সালে জমি কেনার পর দাতা জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় মো. সেলিম মুন্সীও উপস্থিত ছিলেন। এতদিন পর ওই জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে সেলিম মুন্সী জবরদখল করেছেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করা হচ্ছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার বলেন, জিডির বিষয়ে তদন্ত করতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে আদালতে।