
সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিস যাওয়ার পথে ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিতদের একজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেভিগেশন ব্যবস্থা ও জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় নৌকাটি প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে ভেসে ছিল। এ সময় তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদের তাপ, খাদ্য ও পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে ওই ১০ জনের মৃত্যু হয়। দীর্ঘসময় সাগরে ভাসমান থাকায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরলে জীবিতরা বাধ্য হয়ে সেগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেন।
গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে নৌকাটি পৌঁছালে ২৯ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ২৯ বাংলাদেশি বর্তমানে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস।
রবিবার দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি জানার পর দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) জাকির হোসেন স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের কাছ থেকে দূতাবাস জানতে পারে, তাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২৯ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের এক কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি- মোট ৪২ জন।
নৌকাটি স্পিডবোট ইঞ্জিনচালিত হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার আগে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বলা হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।
দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় একপর্যায়ে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পরে জ্বালানিও ফুরিয়ে যায়। এ অবস্থায় নৌকাটি প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসতে ভাসতে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়।
আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগরে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে অসুস্থ হয়ে ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানি মারা যান। দীর্ঘসময় সাগরে অবস্থান করায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরে যায়। একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেন বলে জানান করিম।
ঘটনাটি জানার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের বক্তব্য এবং সরেজমিন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাবে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস।
তথ্যসূত্র: কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদন।