টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়ায় জলাবদ্ধতা, ক্ষতির মুখে হাজারো পরিবার ও সবজিচাষী

হোম » পটুয়াখালী » টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়ায় জলাবদ্ধতা, ক্ষতির মুখে হাজারো পরিবার ও সবজিচাষী
শুক্রবার ● ১০ জুলাই ২০২৬


টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়ায় জলাবদ্ধতা, ক্ষতির মুখে হাজারো পরিবার ও সবজিচাষী

 

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

টানা ছয় দিনের বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক হাজার একর জমির ফলন্ত গ্রীষ্মকালীন সবজিতে গোড়া পচনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া অন্তত ৪৫০টি ছোট-বড় পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।

উপজেলার খাল-বিল, কৃষিজমি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বেড়িবাঁধের বাইরের বাসিন্দারা। টানা বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানির চাপ যোগ হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কুমিরমারা গ্রামের সবজিচাষী সুলতান গাজী বলেন, গ্রামের অধিকাংশ কৃষক করলা, ঝিঙে, লাউ, চিচিঙ্গা, দুন্দল ও শসা বিক্রি শুরু করেছেন বা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ায় পচন ধরার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরও দুই-এক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফলন্ত গাছ রক্ষা করা কঠিন হবে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, তিনি কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে গাছের গোড়ায় পচন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নীলগঞ্জ এলাকার অধিকাংশ কৃষক উঁচু বেডে সবজি চাষ করায় এখনো ক্ষেত ডুবে যায়নি। এছাড়া স্লুইসগেট কৃষকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পানি নিষ্কাশনও কিছুটা সম্ভব হচ্ছে।

মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী ফজলুর রহমান জানান, আন্ধারমানিক নদীর তীরবর্তী নিজামপুর এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি ধানখালী, চম্পাপুর, দেবপুর, করমজাতলা ও গন্ডামারি এলাকার বেড়িবাঁধেও সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম বলেন, চার থেকে পাঁচটি পয়েন্টে জরুরি সুরক্ষামূলক কাজ করা হয়েছে। তবে এখনও প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে কলাপাড়া পৌরসভা, কুয়াকাটা পৌরসভা, টিয়াখালী, নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, লালুয়া ও লতাচাপলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ খাল ভরাট ও দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষকদের ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্লুইসগেট সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৯:৫৭ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ