
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম ও কম বরাদ্দের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বরাদ্দকৃত ঈদ উপহার বর্জন করে বন্দরের মূল ফটকের সামনে দিনব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। এতে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিক নেতা ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, মোংলা বন্দরে জাহাজে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি জেটি এলাকায় কর্মরত সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদেরও প্রতি বছর দুই ঈদে নিয়মিতভাবে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী মোট ৯৭৪ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিকের জন্য ঈদ উপহারের খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন। তবে এবার আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাত্র ৭৫০ জন শ্রমিকের জন্য খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ করা হয়। ফলে আগের তালিকা থেকে ২২৪ জন নিয়মিত শ্রমিক বাদ পড়েন।
এ সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদ উপহার হিসেবে কম পরিমাণে পণ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু হলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তারা উপহার বর্জন করে মোংলা বন্দরের মেইন গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা সবাই মিলে বন্দরে কাজ করি। তাই সুখ-দুঃখও সবার সমান। ২২৪ জন শ্রমিককে বাদ দিয়ে আমরা কোনো উপহার নেব না। একই সঙ্গে সঠিক ওজন অনুযায়ী পণ্য বিতরণ করতে হবে। অন্যথায় কোনো শ্রমিকই এই উপহারের প্যাকেট গ্রহণ করবে না।
শ্রমিকদের অনড় অবস্থানের মুখে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মাহমুদুন চৌধুরী বলেন, বন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কিছু কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। যেসব শ্রমিকের বৈধ ও হালনাগাদ শ্রমিক কার্ড নেই, নিয়ম অনুযায়ী তাদের উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত উপহার বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বৈধতা যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের লেবির টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রাখা হয় এবং সেই অর্থ থেকেই ঈদের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। গত বছর এ খাতে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এবার বরাদ্দ কমিয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ কারণেই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং মোংলা বন্দর বার্থ অ্যান্ড শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি বছর দুই ঈদে খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়ে থাকে।
এমই/এমআর