সাংবাদিকতায় শকুনের সাথে দেখা…

প্রথম পাতা » মুক্তমত » সাংবাদিকতায় শকুনের সাথে দেখা…
সোমবার ● ২১ জানুয়ারী ২০১৯


এম. কে. দোলন বিশ্বাস

॥ এম. কে. দোলন বিশ্বাস ॥
সাংবাদিকতায় কী পেলাম? কী বা পাইনি? আর কী বা পাবো? অথবা সাংবাদিকতায় কী বা খুয়েছি? এখন কী করবো? কোটি টাকার এমন নানাবিধ প্রশ্নের অমীমাংসীত জবাবে আলোকপাতে আজকের নিবন্ধের শিরোনামের শেষাংশ অবশিষ্ট। আর শিরোনামের প্রথমাংশের বাস্তবতা হলো- ‘কেউ জ্বলে, কেউ গলে।’ সুনামীর চিচিং ফাঁকের খবর প্রকাশ হলে- নীতিহীনদের রাগে জ¦লে উঠে। দেখা হয় শকুনের সাথে। সুনাম ছড়িয়ে দেওয়া খবরে সুনামধন্যদের ন্যূনতম খুশিতে গলতে দেখা যায়। এটা অবশ্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় না। স্বার্থ হাসিল পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। এ সবই স্বাধের সাংবাদিকতার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি। আজ নির্দিধায় বলতে পারি, দেড় দশকের সাংবাদিকতায় আজ অবধি যেমন শয়নে-স্বপনে তিক্ত অভিজ্ঞতা বেশি কাতরায়। তেমই সাংবাদিকতায় অর্জন-বর্জনে ডানে-বামে শুধু শকুন আর শকুনেরই দল। হাজারো প্রতিকূলতার বিপরীতে কখনো প্রকাশ্যে, কোখনো গোপনে, আবার কখনো মাঝে-মধ্যে সাংবাদিকতার দূর্লভ নেশায় ছুটে চলা। বিনিময়ে কখনো হুমকি, কখনো মামলা, আবার কখনো গ্রেফতার টু কারাঅভ্যন্তরে হাজতবাস। মাঝে মধ্যে আলোর আভাস। এসব কিছুইতে দেখা মিলে শকুন আর শকুন। স্বাধের সাংবাদিকতার তিক্ত অভিজ্ঞতার যাতনে পাঠকদের আর কাবু কিংবা হাঁফিয়ে তুলতে চাই না। আজ শিরোনামে যখন অগণিত প্রাণীর মধ্যে থেকে ‘শকুন’-কে নির্বাচিত করেছ্ িসেকারণেই শকুন বিষয়ে যৎসামান্য আলোকপাত করা বাঞ্চনীয় মনে করছি।
কলামিস্ট নীরেশ চন্দ্র দাস ‘শকুনের সাথে দেখা’ শিরোনামে এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন- শকুন পরিবেশ বান্ধব প্রাণী। মানব জাতির জন্য কল্যাণকর। অথচ মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়, খাদ্যের অপ্রতুলতা এবং বাসা বাঁধার উপযুক্ত পরিবেশ ও স্থানের অভাব মানুষের জন্য কল্যাণকর এই প্রাণীকুলের অস্থিত্ব সংকটের কারণ। অবশ্য Dictofenac Ges Ketoprofin নামক পশু চিকিৎসার জন্য আবিষ্কৃত ঔষধ দুটিই নাকি শকুন বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ। এই ঔষধ গুলো খেয়েছে এই রকম পশুর শরীরে ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এমনভাবে থেকে যায় যে, এই পশু গুলো মারা যাওয়ার পর তার  গোস্ত খেলে শকুনের কিডনি নষ্ট হয়ে শকুনেরা মারা যায়। এভাবেই শকুন কুল আজ বিলুপ্ত প্রায়। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে পাকিস্তান, ভারত এবং নেপাল সরকার ড্রাগ দুটির আমদানি, বিপনন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ২০০৬ সালে। বাংলাদেশে Declofenac নিষিদ্ধ হয় ২০১০ সালে এবং Ketoprofin নিষিদ্ধ হয় ২০১৭ সালে। ততক্ষণে ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে।
এক সময় গবাদি পশুর নিরাপদ চারণ ভূমি ছিল আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রধান জীবিকা হিসেবে পশু পালন ও কৃষিই ছিল মানুষের ভরসা। নির্দিষ্ট যায়গা না থাকায় যত্রতত্র মৃত গরু ফেলে দেয়া হতো। আর যেখানেই মরা গরু ফেলে দেয়া হতো, সেখানেই দেখা যেতো শকুনের দল। বাংলাদেশের হাওড়-বাওড়, খাল-বিল, নদী-নালা এমন কোনো জায়গা ছিল না যেখানে শকুন দেখা যেতো না। এখন আর শকুনের দল তো দুরের কথা, শকুনের দেখা পাওয়াও ভার। একটি মরা গরুকে একঝাক শকুন মিলে টেনে হিছড়ে খাওয়ার বর্বর উল্লাস আমরা ছোট বেলায় অনেকবার প্রত্যক্ষ করেছি। গ্রাম বাংলার পথে প্রান্তরে মৃত গরুকে শকুনের দলের ভক্ষণ করা ছিল এক কুৎসিৎ রূপ। মৃত পশুকে এমন নিপুনভাবে টেনে হিছড়ে খেতো যে, শকুনের দল চলে যাবার পর দেখা যেতো রক্তমাংস আর চামড়ার চিহ্নবিহীন একটা অস্থিমজ্জার অবিকল পিঞ্জর পড়ে আছে।
শকুনে খাওয়ার পর অবশিষ্ট অস্থিমজ্জাগুলো সার হিসেবে ব্যবহার করতে আবার একশ্রেণির উৎসুক লোকেরা ভারে করে নিয়ে যেতো। এছাড়া শুনা যায়, বরিশালস্থ অপসোনিন ক্যামিকেল কোম্পানি মৃত গরুর হাড় দিয়ে ক্যাপসুলের ক্যাপ তৈরী করে বিদেশে রপ্তানি করে।  শকুনের প্রতিটি দলেই ‘রাজ শকুন’ নামে একটি দলনেতা ছিল। খাওয়া দাওয়ার ফাঁকে শকুনের দল যখন ডানা মেলে মাথা উঁচূ করে উল্লাস করতো কিশোররা তখন দল বেঁধে ওদের গায়ে দূর থেকে ঢিল ছুড়তো। প্রবাদ ছিল শকুনের গায়ে একটা ঢিল লাগালেই ১০ বছর আয়ু বাড়ে। না লাগাতে পারলে উল্টো ফল। আয়ু কতো বাড়লো বা কমলো ওই হিসাব কখনো না মিলাইয়ে প্রতিযোগিতা করে ঢিল ছোড়াটাই ছিল বড় আনন্দের।
আজ মৃত গরুর গোস্ত খাওয়া শকুন বিলুপ্ত হলেও বিধংসী শকুনের বংশ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগেকার শকুনরা শুধু মরা পশুর গোস্তই খেতনা। দুর্ভিক্ষে, রাষ্ট্র বিপ্লবে বেওয়ারিশ মানব সন্তানের লাশ শকুনে খাওয়ার দৃশ্য, পত্র পত্রিকায় বা টিভি পর্দায়ও এখনো ভাসে। ৭১’ এর গণহত্যা, ৬৯ এর প্রলয়ঙ্করী ঘুর্নিঝড় এ সময়গুলো ছিল শবদেহ শকুনে চিবিয়ে খাওয়ার মহোৎসব। এদেশে শকুন এখন নেই বললেই চলে। বিগত বৎসর গুলোতে শকুন দেখেছেন এই রকম লোক খুব কম। ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকায় ২০১৮ সালের ২২ জুন প্রকাশিত এক জরীপ অনুযায়ী ১৯৮০ সালে পাক ভারত উপমহাদেশে শকুনের সংখ্যা ছিল ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি। বর্তমানে ওই সংখ্যা ১০ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থা আরও করুণ। ২০০৮ সালে যেখানে শকুনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৭২টি, ২০১২ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮১৬টি-তে।
আশার কথা বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বিপন্ন শকুন রক্ষার জন্য ÔVulture conservation action planÕ নামে ২০১৬-২৬ দশ বছরের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। শকুনকে ঘিরে গবেষণার অন্ত নেই। শিকারী থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী হয়ে একেবারে সাহিত্যিকরা শকুন নিয়ে ভেবেছেন। ‘শকুন’ শিরোনামে গল্প লিখেছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। ওই গল্পে গ্রামের ছেলেরা পিটিয়ে শকুন মেরে উল্লাসে মেতে ওঠে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের আবহে সেই শকুনটি যেনো স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এবং সেনাশাসনের তাঁবেদার ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’ মাতবরদের প্রতীক হিসেবে এসেছিল। গল্পের শকুনটির মৃত্যু যেনো শোষকদের পরাজয়েরই প্রতীক। কিন্তু এখন দেশের ৯৮ শতাংশ শকুন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার খবরে খুশি না হয়ে দুঃখ ও উদ্বেগই জাগছে। ৬৯’ এর প্রলয়ঙ্করী ঘুর্নিঝড়ে ১০ লাখ লোকের প্রাণহানির কারণে উপকূল অঞ্চলে এতো লাশ এক সাথে ভেসে উঠেছিল, শকুনের দল যেনো খেতে খেতে ক্লান্ত। এসব দৃশ্য দেখে সমাজচতেন সংগ্রামী কবি সিকান্দর আবু জাফর কবিতা লিখেছিলেন- ‘শকুন পাঠিয়ে দিও’।
বাঙালি সংস্কৃতিতে শকুন কোনো দিন আদর বা প্রীতি পায়নি। পাখিটির রূপহীনতা আর মৃত পশু ভক্ষণের স্বভাবই এর জন্য দায়ী। তবে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সব প্রাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির কাছে শকুনের মূল্য অসামান্য। আর সব পাখির মতো শকুনও প্রাণীজগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এরও গুরুত্ব রয়েছে। ২০১০ সালের মাঝা মাঝিতে ঢাকায় এক সেমিনারে দেশের পাখিপ্রেমিক ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা সেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এতে শকুনের জন্য শোকও প্রকাশ করা হয়। (প্রথম আলো : সম্পাদকীয়- ০৮.০৯.২০১০)
শকুন প্রকৃতির ‘ক্লিনার’ হিসেবে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করে বলেই মৃত প্রাণীর দেহের জীবাণু অন্য প্রাণীকে আক্রমণ করতে পারে না। কিন্তু দেশময় গবাদিপশুকে ডাইক্লোফেনাকসহ বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ানোয় এসব পশু মরে গেলে তার গোস্ত খেয়ে দলে দলে শকুনের মৃত্যু হচ্ছে। শকুনের দোয়ায় গরু না মরলেও গরুর দেহের বিষে শকুন মরছে। বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, শকুন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স, যক্ষা ও খুরা রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় গরুর অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগে মৃত্যু এবং মানুষের মধ্যে তার সংক্রমণের পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ‘লাল হুঁশিয়ারি’ জারি হয়েছে। এ ঘটনায় যদি শকুনের গুরুত্ব সবাই উপলব্ধি করে, তবে শকুনও বাঁচে, মানুষও বাঁচে।
বিশেষজ্ঞরা শকুন রক্ষায় গবাদিপশুর ব্যথানাশক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ও ক্লিটোফেনাক নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। আশা করি, সরকার দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু মানুষ ও প্রাণীকুলের জন্য ক্ষতিকর এমন অনেক ওষুধ ও রাসায়নিকের দেদাচ্ছে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে, যা চিহ্নিত ও নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু দেখা যায়, মৃত্যু, বিপর্যয় ও মহামারি না হওয়া পর্যন্ত কারও টনক নড়ে না। অনেক সময় দেখা যায়, এ ধরনের পরিস্থিতি একশ্রেণীর ওষুধ কোম্পানির জন্য পোয়াবারো হয়ে ওঠে। তাই সরকারকে সঠিকভাবে রোগের কারণ চিহ্নিত করা, প্রতিকারের যথাযথ উপায় খুঁজে বের করা এবং বাণিজ্যিক অভিলাষ প্রতিরোধেও সজাগ থাকতে হবে। এ নিবন্ধে শকুন সম্পর্কে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তার মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক শকুনের আবাস সিলেটের হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণীর জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। এর পরের স্থান সুন্দরবন। এখানে শকুনের নির্বিঘœ আবাস ও প্রজনন পরিবেশ তৈরির জন্য বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, প্রাণীজাত শকুন বিলুপ্তের দ্বার প্রান্তে থাকলেও আজ বাংলার যে দিকে তাকায় সেদিকেই একশ্রেণীর শকুন আর শকুন। ডিজিটাল এ বাংলাদেশে হরেক প্রজাতির শকুনের আনাগুনা। বলতে গেলে শকুন আর শকুনের দলে ভরে গেছে পুরোবাংলা। বাস্তবতার নিরিখে কোনো দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করলেই ওইসব শকুনের সাক্ষাত পেতে আর দেরিহ য় না। বরং শকুন দলবলে আক্রমণ করে বসে। যার মাসুল বয়ে বেড়াতে হয় পুরো পরিবারকে। যার জলজ্যন্ত উদাহরণ- সাংবাদিকতায় ‘ঘুসের টাকা ওসির নিকট ফেরত নেওয়ায় এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগেকে পাগল বানানোয় পায়তারার খবর সংগ্রহের দায়ে থানায় মামলা দায়ের টু গ্রেফতার হয়ে কারাগার। ‘দশআনী ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে পাইলে বাঁশের খাচা’, শিরোনামে খবর পত্রিকায় প্রকাশের জের ধরে ৬ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার টু কারাগার। ‘পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে জজমাট জুয়ার আসর’ পৃথক পৃথক শিরোনামে একাধিক খবর প্রকাশের দায়ে থানায় অন্তত সোয়া ডজন অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়। এছাড়া ‘এমপি’র কোটায় টিআর-কাবিটা প্রকল্পে নির্ভেজাল অনিয়ম-দুর্নীতি’ শিরোনামে খবর প্রকাশের দায়ে হুমকি-দামকির পরে কোনো মতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়ে পরিবার নিয়ে আজ মুক্ত বাতাসে ঘুরছি। সাংবাদিকতার দায়ে হুমকি-দামকির মুক্ত নয়। বরং দেশান্তরের হুমকিও পেয়েছি। এতসব পরেও সাংবাদিকতায় প্রতিনিয়ত ছোটে চলা। সাংবাদিকতার নেশায় গভীর রাত জেগে কম্পোজ করা নিত্যদিনের অনুসঙ্গ।
সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় আমরা প্রাণীজাত শকুনের বিপরীতে শকুনের জাতকে তিন ভাগে ভাগ করে তিনটি নামে আখ্যায়িত্ব করতে পারি। প্রথমত : ‘মানুষ খেকো শকুন’। এ প্রজাতি শকুন চিবিয়ে চিবিয়ে জ্যান্ত মানুষ খায়। দ্বিতীয়ত : ‘লাশ খেকো শকুন’। এ প্রজাতি শকুনরা মৃত মানুষ খায়। এরা মৃত মানুষের লাশকে ঘিরে ফায়দা নিতে নানাবিধ ফিকির-ফন্দি আঁটে। তৃতীয়ত : ‘হাসুকে শকুন’। এ প্রজাতি শকুন অট্টহাসি হাসে। এরা অন্যের বিপদে সুযোগ খোঁজে।
শ্রেণী ভেদে শকুনরা কুখ্যাতি অর্জন করে থাকে। ‘মানুষ খেকো শকুন’ জ্যান্ত মানুষ হত্যা করে খায়, তারা নিন্ম স্তরের শকুন। ‘লাশ খেকো শকুন’ হত্যার পর মৃত মানুষের রক্ত নিয়ে হলি খেলে আর তৃপ্তিতে গলা ভেজায়; ওরা কুবুদ্ধিজীবী শ্রেণীর শকুন। ‘হাসুকে শকুন’ অন্যের বিপদে অট্টহাসি হেসে নগ্ন উল্লাসে মেতে ওঠে। এ প্রজাতি শকুনরা মধ্য কুবিত্ত শকুন।
বালাবাহুল্য যে, সমাজ থেকে শুরু করে আজ সর্বস্তরে এসব শকুনরা বিরাজমান। সুতরাং দেশ বাঁচাতে হলে শকুন নিধন করে বাংলার আকাশ-বাতাস ও মৃত্তিকা শকুনমুক্ত করার বিকল্প নেই। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে ‘শকুন নিধন’ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করি। তবে প্রাণীজাত কোনো শকুনের নিধন আমরা চাই না। শুধু চাই মানুষরূপী শকুন যাতে মাথা না চাড়া দিতে পারে। সুতরাং আজ সবার একটাই প্রত্যাশা হওয়া বাঞ্ছনীয় যে, ‘শকুন শকুন খেলা’ বন্ধ হোক। তবে সাবধান! শকুন দেখার লোভে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতায় নয়।

[এম. কে. দোলন বিশ্বাস, দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক]  

বাংলাদেশ সময়: ১০:১১:০৮ ● ৭৬৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ