সারাদেশকে উন্নত মানের সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে

প্রথম পাতা » বিশেষ প্রতিবেদন » সারাদেশকে উন্নত মানের সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে
শুক্রবার ● ১৫ মার্চ ২০১৯


---

সাগরকন্যা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট॥
দেশে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে চারলেন সড়ক। পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নে নতুন নতুন পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে। মূলত সরকার পর্যায়ক্রমে সারাদেশকে উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চাচ্ছে। গত ১০ বছরে (২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত) সড়ক ও জনপথ অধিদফতর উন্নয়ন খাতের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৩৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশস্ত করা হয়েছে দেশের ৫ হাজার ১৭১ কিলোমিটার মহাসড়ক। তার মধ্যে ৪১৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক কোথাও চারলেন, আবার কোথাও তার বেশি লেনে উন্নীত করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন মোট ২১ হাজার ৫৯৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৩ হাজার ৮৩৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪ হাজার ৪৭৪ এবং জেলা সড়ক ১৩ হাজার ২৮৭ কিলোমিটারেরও বেশি। তার মধ্যে ৪ হাজার ৪০৪টি সেতু এবং ১৪ হাজার ৮৯৪টি কালভার্ট রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের অনুন্নয়ন খাতের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৮৬৯ কিলোমিটার মহাসড়ক কার্পেটিং ও সিলকোট করা হয়েছে। এক হাজার ৮৯২ কিলোমিটার ডিবিএসটি এবং ৮ হাজার ১৫৮ কিলোমিটার ওভারলে করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের চার লেনে উন্নীত হওয়া ৬টি মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৪৭০ কিলোমিটার। তার মধ্যে অর্থনীতির লাইফ-লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্যরে পরিমাণ ১৯০ কিলোমিটার। যা চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। গুরুত্বের দিক থেকে তারপরেই রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। যা ইতোমধ্যে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সময়ে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। তার বাইরে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর পৃথক সার্ভিস লেনসহ চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া-পাচ্চর-ভাঙ্গা মহাসড়ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। কুমিলা বিশ্বরোড থেকে লাকসাম হয়ে নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হয়েছে। তার মধ্যে আশার আলো ছড়িয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন প্রকল্প। যদিও ছোটখাটো কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে যদিও দুটি প্রকল্পের পুরোপুরি সুফল মানুষ পাচ্ছে না। তবুও আগের চেয়ে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আর ঢাকা-টাঙ্গাইল চারলেন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সড়ক যোগাযোগে আরেকটি নতুন যাত্রা শুরু হবে। তাছাড়া রংপুর পর্যন্ত ফোন লেন প্রকল্প করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গোটা উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের ভোগান্তি কমে আসবে। তাছাড়া অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করলে ওই প্রকল্পটি অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া বিগত ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ বছরেই নির্মিত হয়েছে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ। যা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাছাড়া গত ১০ বছরেই দেশে আট লেনের মহাসড়কে উন্নীত করা হয়েছে যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর সড়ক। এটি দেশের প্রথম আট লেনের মহাসড়ক।
সূত্র আরো জানায়, গত দশ বছরে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২৭৬টি প্রকল্প শেষ করেছে। একই সঙ্গে ৩৪১টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে ১৩৯টি প্রকল্প চলমান। সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী এ সময়কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস এবং ৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর মহিপালে ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ফেনীর ফতেহপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ইলিয়টগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কালুশাহ মাজার এলাকায় তিনটি রেলওয়ে ওভারপাস, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নির্মিত হয়েছে মাওনা ফ্লাইওভার। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগরীতে বনানী রেলওয়ে ওভারপাস, মিরপুর থেকে এয়ারপোর্ট রোড পর্যন্ত মোঃ জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, কুমিল্লা শহরে শাসনগাছা ফ্লাইওভার, টঙ্গীতে আহসান উল্যাহ মাস্টার ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ ফ্লাইওভারগুলো উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া ওই সময়ে ৯১৪টি সেতু ও ৩ হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট কোথাও নির্মাণ আবার কোথাও পুননির্মাণ করা হয়েছে। তার মধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুসহ সুলতানা কামাল, শেখ লুৎফর রহমান, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সোনাতলা, এলাসিন, কাজির বাজার, আচমত আলী খান, শাহ আমানত, ওয়াজেদ মিয়া, থানচি, রুমা, তিস্তা, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, বড়দহ, সানন্দবাড়ি, বিরুলিয়া, চৌফলদন্ডী ও শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি সেতু উল্লেখযোগ্য।
এদিকে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬ স্টেশন বিশিষ্ট উভয়দিকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোদমে এগিয়ে চলছে। যা ২০২৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি এডিবির অর্থায়নে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে ২৩টি সেতু নির্মাণ এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এলেঙ্গা হতে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সার্ভিস লেনসহ চারলেনে উন্নীতকরণ কাজও শুরু হয়েছে। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দ্রুতগতির বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি রুট নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। বরিশাল-পটুয়াখালী জাতীয় মহাসড়কাংশে পায়রা নদীর ওপর চারলেন বিশিষ্ট পায়রা সেতু, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুসহ বেশকিছু সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (বাংলাদেশ) আওতায় কালনা সেতুসহ ১৭টি সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ৮২টি সেতু নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কক্সবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। দুপাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের পৃথক লেনসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। শুরু হতে যাচ্ছে সিলেট-জৈন্তাপুর সড়ক উন্নয়ন কাজ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে লাকসাম হয়ে নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দেশের তিন পার্বত্য জেলায় ৩১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কগুলোর প্রায় ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করা হয়েছে। তাছাড়া সারাদেশের মহাসড়কে ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করে ১৩০টি বাক জটিলতা নিরসন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৩৫:৫৫ ● ৬১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ