ছাতকে স্কুলছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ » ছাতকে স্কুলছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
মঙ্গলবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২


ছাতকে স্কুলছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

ছাতক(সুনামগঞ্জ) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

শিক্ষক-শিক্ষিকাকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর ভাষায় কথা বলা, ভালো আচরণ ও আদর্শ মানুষ করতে নিয়মিত স্কুলে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিক্ষা আইনে বেত্রাঘাত এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ! সুনামগঞ্জের শিল্প নগরী ছাতকের সীমান্তবর্তী এলাকার ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন, সহকারি শিক্ষিকা ইফাত সাল সাবিন রাবি ও সহকারি শিক্ষিকা রুহেনা খানম হাবিবা এর বিরুদ্ধে ৩ জন ছাত্রদের খেলা মাঠ থেকে ডেকে এনে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, হাতে লাঠি দিয়ে মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকালে উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রুহেনা খানম হাবিবা ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন (রিয়ান), এমরান হোসেন ও ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ আলীকে খেলায় ব্যস্ত থাকার কারনে শিক্ষিকার কথা শুনেনি। দেরি করার অপরাধে তাদের শিক্ষিকা ডেকে এনে গালাগালি করে তার হাতে লাঠি দিয়ে তাদের উপর মারপিট ও নির্যাতন করে আহত করেছেন ৩জন ছাত্রকে। ঘটনার জানাজানি হলে আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএমসির সভাপতি সহ সদস্যবৃন্দকে অবগত করে এ ঘটনার বিচার চান। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন এ ঘটনার সমাধানের নামে কালক্ষেপন করে প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে ঝুলে রাখা হয়। প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র মেরামতে নামে লাখ লাখ টাকা  ভুয়া ভাউছার জমা দিয়ে লুটপাটের অভিযোগ করেন এলাকাবাসি। এ ঘটনায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেনের বাবা সাবেক ইউপি মেম্বার লাল মিয়া বাদী হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন ,সহকারি শিক্ষিকা ইফাতসাল সাবিন রাবি ও সহকারি শিক্ষিকা রুহেনা খানম হাবিবার বিরুদ্ধে গত ২৫সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ছাতক উপজেলা নিবাহী কর্মকতা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকালে উপজেলা নিবাহী কর্মকতা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

এব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকতা মাসুম মিয়া অভিযোগ প্রাপ্তির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষা আইন অনুসারে বেত্রাঘাত এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি তদন্তপুর্বক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায়  ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটির তদন্তের প্রেক্ষিতে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এএমএল/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৫:২২ ● ৪৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ