তালতলীর মুন্ঈম শিশু নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনিত

প্রথম পাতা » বরগুনা » তালতলীর মুন্ঈম শিশু নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনিত
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২০


তালতলীর মুন্ঈম শিশু নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনিত

আমতলী (বরগুনা) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

বরগুনার তালতলী উপজেলার এম. এ মুন্ঈম সাগর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তিপুরষ্কার-২০২০ মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে নেদারল্যান্ড সরকারের পিচ রাইটস কমিটির নিকট সুপারিশ পাঠিয়েছে। শিশুদের জন্য এটি নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত। মুনঈম শিশু শান্তি পুরুষ্কারে মনোনিত হওয়ার খবরে উপকুলীয় এলাকা বরগুনায় আনন্দের বন্যা বইছে।
তালতলী উপজেলার চামোপাড়া গ্রামের শাহ্ মোঃ হুমায়ুন সগির ও মোসা. মনিরা বেগম দম্পতির বড় সন্তান এম এ মুন্ঈম সাগর। ছোট বেলা থেকেই মুনঈম শিশু অধিকার বাস্তবায়নের প্রতি ছিল অদম্য ইচ্ছা। তারই ধারাবাহিকতায় মুনঈম শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন। শিশু অধিকারের প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা শাহ্ মো. হুমায়ুন সগির ছেলেকে সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ যোগান এবং প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ডিজাবল ডেভেলপমেন্ট ট্রাষ্ট বিডিডিটি নামের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের টাউগার্স অব বাংলাদেশ শাখার প্রতিষ্ঠাতা কর্নধার মুনঈম সাগর। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাত্র ৯ বছর বয়সে অসহায়, গৃহহীন, মাতৃহীন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য কাজ করেছেন সাগর। তার কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন বে-সরকারী সংগঠনের নজরে আসে মুনঈম সাগরের কার্যকলাপ। আস্তে আস্তে তার কাজের পরিধি দেশ গড়িয়ে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মুনঈম শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্বজুড়ে  এই অসহায় শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছেন। মুনঈম সাগর বর্তমানে ঢাকা রেসিডেন্সশিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান শাখার দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র। অধিকার বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মুনঈম এর অনেক লেখা বাংলাদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন দক্ষ সঙ্গীত শিল্পীও। মুনঈম এর মা মুনিরা বেগম পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা। বাবা মোঃ শাহ মোঃ হুমায়ুন সগির একজন সরকারী চাকুরীজীবি। তার বাবা আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। মুনঈম তার এই কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ জাপান সরকারের ‘সেভেন মিতসুবিসি জাপান এএনআইকেকেআই ফেস্ট বেস্ট ক্রিয়েটিভ এ্যায়ার্ড-জাপান সরকার ২০১৩’ এবং বাংলাদেশ সরকারের  জাতীয় সেরা সমাজকর্মী-২০১৭, বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, জাতীয় সেরা স্কাউট মোটিভেটর অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ পুরস্কারের মতো ১৫টি জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন। বিগত ১৩ অক্টোবর
বাংলাদেশ সরকার মুনঈমকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তিপুরষ্কার-২০২০পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে নেদারল্যান্ড সরকারের পিচ রাইটস কমিটির নিকট সুপারিস পাঠিয়েছে। মুনঈম শিশু শান্তি পুরুষ্কারে মনোনিত হওয়ার খবরে উপকুলীয় এলাকা বরগুনায় আনন্দের বন্যা বইছে।
মুনঈম সাগরের বাবা শাহ্ মোঃ হুমায়ুন সগির বলেন, আমার ছেলের এ অর্জন শুধু বরগুনাই নয় বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। আমার ছেলে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তিপুরষ্কারে মনোনিত হওয়ায় সকলের নিকট দোয়া কামনা করছি।
মা মুনিরা বেগম বলেন, ছোট বেলা থেকেই মুনঈম মানুষের প্রতি দরদী ছিল। অসহায় শিশুদের দেখলে তাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে যেত। এখনও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে। তারই স্বীকৃতি স্বরুপ আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরুস্কারে মনোনিত হয়েছেন। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।
এমএ মুনঈম সাগর বলেন, শৈশবে আমার দুই বন্ধু খাবার ও ওষুধ না পেয়ে মারা যান। ওই ঘটনা আমাকে খুব ব্যাথিত করে। এরপর থেকে নিজে নিজে প্রতিজ্ঞা করি শিশুদের নিয়ে একটা কিছু করার। ওই ব্যাথাকে বুকে ধারন করেই লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করি। এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার অধিকার বঞ্চিত শিশুদের তাদের অধিকার প্রাপ্তিতে ভূমিকা রেখেছি। এ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ জাতীয় ভাবে ১৫টি পুরুস্কার পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার আমাকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে নেদারল্যান্ড সরকারের পিচ রাইটস কমিটির নিকট সুপারিস পাঠিয়েছে। আমি যাতে সফল হতে পারি তার জন্য দেশ বাসীর নিকট দোয়া প্রার্থনা করছি।

এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:০২:২৪ ● ৪০৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ