দুমকি লেবুখালী ভাড়ানী খালে ভাঙন, আতঙ্কে দুই পাড়ের বাসিন্দারা

হোম » পটুয়াখালী » দুমকি লেবুখালী ভাড়ানী খালে ভাঙন, আতঙ্কে দুই পাড়ের বাসিন্দারা
সোমবার ● ২৭ এপ্রিল ২০২৬


 

দুমকি লেবুখালী ভাড়ানী খালে ভাঙন, আতঙ্কে দুই পাড়ের বাসিন্দারা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ভাড়ানী খালের উভয় পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের তোড়ে খালপাড়ের জমি, বসতভিটা, রাস্তা ও গাছপালা খালে বিলীন হচ্ছে। এতে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে খালের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে খালে চলে গেছে। এতে এলাকার মানুষের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও নিত্যযাত্রী সাধারণ মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কার্তিক পাশা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার মৃধা সাগরকন্যাকে বলেন, ‘খালের ভাঙনে আমার বাড়ির সামনের জমি ও রাস্তার বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বাড়িতে যাতায়াত করতেই কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ভাঙন রোধ না করলে অবশিষ্ট জায়গাও হারাতে হবে।’

একই গ্রামের নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিনই খালের পাড় ধসে পড়ছে। ঘরবাড়ি নিয়ে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। যে কোনো সময় বাড়িঘরও খালের মধ্যে চলে যেতে পারে।’

হৃদয় সিকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালপাড়ে ভাঙন চললেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত ব্লক ফেলে বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি, ফলে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, ভাঙনের কারণে বসতভিটার পাশাপাশি কৃষিজমিও ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেকের ফলজ ও বনজ গাছ ইতোমধ্যে খালে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান সাগরকন্যাকে বলেন, ‘লেবুখালী ভাড়ানী খালের ভাঙনের বিষয়টি আমার জানা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।’

 

এদিকে, দ্রুত ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৮:৫৮ ● ২৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ