
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ডিজেল সংকটের কারণে আবাসিক হোটেলগুলোর জেনারেটর সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকরা, বাড়ছে অসন্তোষ ও ভোগান্তি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে জানা গেছে, কুয়াকাটায় চার শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে এ পর্যটন কেন্দ্রে। ডিজেলের অভাবে অনেক হোটেলই জেনারেটর চালাতে পারছে না।
হোটেল আমির হামজার ম্যানেজার রাসেল বলেন, ‘ডিজেল সংগ্রহের জন্য পাম্পে একাধিকবার লোক পাঠানো হলেও আমরা ডিজেল পাচ্ছি না। ফলে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পর্যটকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।’
হোটেল বেস্ট সাউদার্নের জেনারেল ম্যানেজার মো. সাকুর বলেন, ‘ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের সেবা দিতে না পারলে ভবিষ্যতে বুকিং কমে যেতে পারে।’
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওহিদ বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেনারেটরই ছিল ভরসা। কিন্তু তেলের সংকটে সেটিও ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এতে পর্যটকরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি কুয়াকাটা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব টোয়াকের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ‘কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের জেনারেটরসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট যানবাহনও জ্বালানি সংকটে ভুগছে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এসিল্যান্ড বরাবর আবেদন করে অনুমোদন নিয়ে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় অনেক ছোট হোটেল ডিজেল না পেয়ে সমস্যায় পড়ছে। পর্যটকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ সাগরকন্যাকে বলেন, ‘দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি রয়েছে।’
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সংকট নিরসন না হলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।