
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)
যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, স্থগিত লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেসার্স লিংক ইন্টারন্যাশনাল, রয়েল এন্টারপ্রাইজ, করিম অ্যান্ড সন্স ও হুদা ইন্টারন্যাশনাল। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও সখ্যতার কারণে অনেক অনিয়মকারী পার পেয়ে যাচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, গত কয়েক মাসে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আমদানির সময় ১৪টি চালান জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ধরা পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চারটি লাইসেন্স স্থগিত এবং আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, সর্বশেষ গত রবিবার (৫ এপ্রিল) বন্দরের ১৯ নম্বর শেডে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘সিন্থেটিক ফেব্রিক্স’ ঘোষণার আড়ালে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের বড় চালান জব্দ করা হয়। কাগজে ২৬০ প্যাকেট উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ২৬৮ প্যাকেট। জব্দ পণ্যের মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এর আগে ১৪ মার্চ ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণার আড়ালে প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস এবং ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ ঘোষণায় পাটবীজ জব্দ করা হয়। এছাড়া ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের একটি চালানে অতিরিক্ত তিন টন পণ্য পাওয়া যায়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে, যা আমদানি কমে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। অবৈধ পণ্য শনাক্তে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হলেও বাস্তবে মাদক, অস্ত্র ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না।
গত তিন মাসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৫টি মিথ্যা ঘোষণার চালান আটক করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা ছিল। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু চালান আটক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে গোপন সখ্যতায় অবৈধ পণ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বন্দরে অবাধে মাদক, নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য প্রবেশ করছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপদ বাণিজ্য ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।