
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এ বছর চীনাবাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ ফসল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এর চাষে আগ্রহ আরও বেড়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে এখন স্বস্তির হাসি, কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ঘরে তোলার প্রস্তুতি ও বেচাকেনা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চরফ্যাশনে চীনাবাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরের লাভজনক ফলনের কারণে এ বছর কৃষকেরা ব্যাপকভাবে চীনাবাদাম চাষে ঝুঁকেছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত জাতের মধ্যে ঢাকা-১, বিনা চীনাবাদাম-৪, বারি চীনাবাদাম-৮সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২.৫ থেকে ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন চীনাবাদাম উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী নুরাবাদ, নীলকমল, আহমেদপুর, চরকলমি ও মুজিবনগর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি চীনাবাদাম চাষ হয়েছে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ গাছের সমারোহ। কৃষকরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর পলি-দোআঁশ মাটির কারণে এবার ফলন সন্তোষজনক হয়েছে।
তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উর্বর মাটি আর ভালো আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আমরা প্রতি বছর চীনাবাদাম বিক্রি করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করি। এ আয় দিয়েই সংসার চলে। সরকার সহযোগিতা করলে আরও লাভবান হওয়া সম্ভব।’
মুজিবনগর ইউনিয়নের চাষি আবু ইউসুফ জানান, তিনি এ বছর প্রায় ১০ একর জমিতে চীনাবাদাম চাষ করেছেন। অতিবৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হলে এবং উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও কয়েক লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল মিয়াজী বলেন, তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ মাঠ এখন দৃষ্টিনন্দন সবুজে ভরে উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনাবাদাম চাষ হয় চরফ্যাশনে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া এ ফসলের জন্য উপযোগী। এ বছর দুই হাজার কৃষককে উন্নত বীজ ও সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বালাই দমনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’