বরগুনায় গৃহবধূকে বালিশ চাপায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনায় গৃহবধূকে বালিশ চাপায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ২ এপ্রিল ২০২৬


বরগুনায় গৃহবধূকে বালিশ চাপায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনার তালতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে সাত দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ আমতলীর বাসিন্দা মো. শাহজাহান মৃধার ছেলে মো. সবুজ (২৪)। অপর আসামিরা হলেন-সবুজের বাবা মো. শাহজাহান মৃধা ও বোন মোসা. সাজেদা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।

মামলার বাদী হাফসা আক্তার অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বেকার থাকায় শ্বশুর ও ননদের পরামর্শে ব্যবসার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করা হয়। তিনি যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী, শ্বশুর ও ননদ মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আবারও যৌতুক দাবি করা হলে অস্বীকার করায় তিনজন মিলে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামী গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। পরে আমার শ্বশুর এসে বুকের ওপর লাথি মারেন এবং ননদ বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। আমি কোনোভাবে বাঁচার জন্য চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। তখন তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, পরে আমার বাবা এসে আমাকে বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখনও আমি গলা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে খেতে পারি না, গলা ফুলে আছে এবং বুকে তীব্র ব্যথা রয়েছে।

বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু জানান, আসামিরা জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তবে প্রধান আসামি সবুজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।


এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০২:৫৫ ● ৩৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ