
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী এলাকার বাদুরা নতুন বাজারে বর্তমানে ধানের তুষ কেনাবেচা নিয়ে সরগরম অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় গৃহস্থদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তুষ কিনছেন ব্যবসায়ীরা, যা পরে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষক ও গৃহস্থরা ঘরে থাকা ধানের তুষ বাজারে এনে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে কৃষকের অতিরিক্ত আয় হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও এই তুষ সংগ্রহ করে মোকামে বাজারে সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আ. হকিম সাগরকন্যাকে জানান, তিনি প্রতিমন ৪০০ টাকা দরে ধানের তুষ কিনে খুলনার মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিলে প্রতি মণে প্রায় ৫০ টাকা লাভ থাকে। তিনি বলেন, বাদুরা নতুন বাজার থেকে প্রতিদিন শত শত মণ তুষ ট্রাকে করে খুলনার বিভিন্ন মহাজনের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে বস্তায় ভরা তুষ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সেগুলো ওজন করে কিনছেন এবং পরিবহনের জন্য বিভিন্ন যানবাহনে তুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কৃষিভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ উপজাত পণ্য হিসেবে ধানের তুষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত হলেও বর্তমানে এটি শিল্প-কারখানা ও ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া তুষ থেকে তৈরি হচ্ছে রাইস হাস্ক পেলেট, যা বয়লার চালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গবাদিপশুর খাদ্য ও জৈবসার হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানের তুষ থেকে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, বিশেষ ধরনের ইট এবং সিলিকা উৎপাদন করা সম্ভব, যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ধানের তুষের ব্যবসা শুরু করা যায় এবং বাজারে এর চাহিদাও স্থায়ী। ফলে অনেকেই এ খাতে বিনিয়োগ ও যুক্ত হচ্ছেন। মৌসুমভিত্তিক এই তুষ বাণিজ্য স্থানীয় ক্ষুদ্র অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।